আমার ছোট মেয়ে তাঁর স্কুলের বই ছিঁড়ে ফেলে: আমি যেভাবে এই কঠিন সমস্যার সমাধান করলাম

Published On: June 13, 2026
Follow Us
আমার ছোট মেয়ে তাঁর স্কুলের বই ছিঁড়ে ফেলে.png

অবাক লাগলো। সত্যিই। সেদিন বিকেলে ঘরে ফিরে দেখি, আমার মেয়ে তিথির প্রথম শ্রেণির বাংলা বইয়ের প্রায় সাতটি পাতা মেঝেতে ছড়িয়ে আছে। সে নিজে বসে আছে একদম নির্বিকার। মুখে হাসি। আমি তখন কী করলাম জানেন? চিৎকার করলাম। ভুল ছিল সেটা। পরে বুঝলাম, ওই চিৎকারে সমস্যার সমাধান হয়নি, বরং সমস্যাটা আরও গভীর হয়ে গিয়েছিল।

অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানকে বই ছিঁড়তে দেখে মনে করেন এটি সহিংস প্রবণতার প্রথম লক্ষণ, কিন্তু বাস্তবে এটি মোটেও সেরকম নয়। এই কথাটা পড়ার পর একটু স্বস্তি পেয়েছিলাম। তবুও, স্কুলের বই ছিঁড়ে যাওয়া মানে শুধু একটা বইয়ের ক্ষতি নয়। এর পেছনে পাঠের ক্ষতি, স্কুলের জরিমানা, এবং একটা শিশুর সাথে আমার সম্পর্কের ক্ষতির প্রশ্ন জড়িয়ে আছে।

বেশিরভাগ লেখায় বলা হয়, শুধু বই উঁচু তাকে রাখো, সমস্যা মিটে যাবে। আমি একমত নই, কারণ তিথির বয়স তখন ছয় বছর, সে উঁচু তাক থেকেও বই নামিয়ে আনতে পারত। আর সে স্কুলের বই ছিঁড়ছিল, মানে পাঠ্যবইকে সে ভালোবাসার জায়গা হিসেবে দেখছিল না। এই পার্থক্যটা ধরতে পারাই ছিল আমার সবচেয়ে জরুরি কাজ।

বাবা-মা হিসেবে বোঝা দরকার যে শিশুর আচরণ প্রায়ই কোনো গভীর প্রয়োজন বা কারণ থেকে জন্ম নেয়। সেই কারণটি চিহ্নিত করতে পারলে ধৈর্য ও বোঝাপড়া দিয়ে কার্যকর সমাধান খোঁজা সম্ভব।

যদি আপনার সন্তানও বই ছিঁড়ে থাকে, তাহলে আজই একটাই কাজ করুন রাগ করার আগে পাঁচ মিনিট চুপ করে ভাবুন, সে কখন বই ছিঁড়েছে। ক্লান্ত থাকলে? রাগে? নাকি একা বসে থাকলে? ওই প্যাটার্নটা ধরা গেলে বাকি পথটা অনেক সহজ।

শিশু কেন স্কুলের বই ছেঁড়ে: বিজ্ঞান যা বলছে, আর আমি যা দেখলাম

এটাই কথা। কারণ না জানলে সমাধান আসে না।

বই ছেঁড়া আসলে বিকাশের একটি স্বাভাবিক পর্যায়। এই ধাপটি শিশুর হাত ও চোখের সমন্বয় এবং সূক্ষ্ম মোটর দক্ষতা তৈরিতে সাহায্য করে, যা লেখালেখি, বোতাম লাগানো ও নানা দৈনন্দিন কাজে পরে কাজে আসে। কিন্তু তিথির ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু ভিন্ন ছিল। সে তখন ক্লাস ওয়ানের ছাত্রী, বয়স ছয়। এই বয়সে মোটর দক্ষতা সমস্যা থাকার কথা নয়।

শিশুরা অনেক সময় ইন্দ্রিয় উদ্দীপনার খোঁজে বই ছেঁড়ে। কাগজ ছেঁড়ার শব্দ ও অনুভূতি তাদের কাছে একটা তৃপ্তিদায়ক ইন্দ্রিয় অভিজ্ঞতা, যা তাদের অনুভূতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। আমি তিথিকে পর্যবেক্ষণ করে বুঝলাম, সে বই ছিঁড়ত মূলত বিকেলে, যখন স্কুল থেকে ফেরার পর ক্লান্ত থাকত এবং কেউ তার সাথে কথা বলত না।

মনোযোগ ঘাটতিজনিত সমস্যা, যা সাধারণত শিশুদের মনোযোগের অভাব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, সেক্ষেত্রে আচরণগত সমস্যাও দেখা দিতে পারে। সততার সাথে বলছি, এটা নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত ছিলাম না যে তিথির ক্ষেত্রে এই বিষয়টা প্রযোজ্য কি না। তাই শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে গিয়েছিলাম।

বই ছেঁড়া শিশুদের কাছে একটি অনন্য ইন্দ্রিয় উদ্দীপনার উৎস। ছেঁড়ার শব্দ শোনা এবং কাগজের প্রতিরোধ ও ছেড়ে দেওয়ার অনুভূতি পাওয়া তাদের নানাভাবে তৃপ্ত করে। এই তথ্যটা জানার পর আমি বুঝলাম, তিথির সমস্যাটা শাস্তি দিয়ে মেটানো সম্ভব নয়।

ব্যক্তিগতভাবে আমি একটা সহজ পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি বেছে নিলাম: সাত দিন ধরে একটা ছোট খাতায় লিখলাম, ঠিক কখন ও কী পরিস্থিতিতে সে বই ছেঁড়ে। এই পরিমাপের ফলাফলে দেখলাম, ১০টির মধ্যে ৮টি ঘটনাই বিকেলে ঘটেছে, যখন সে একা ছিল।

কারণ খোঁজার আগে নিজের সন্তানকে ৭ দিন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করুন এবং প্যাটার্নটা খাতায় লিখুন। মাত্র ১০ মিনিটের দৈনিক কাজ, কিন্তু ফলটা অমূল্য।

প্রথম তিন সপ্তাহে আমি যেসব পদ্ধতি চেষ্টা করলাম এবং কোনটা কাজ করেনি

থাক, মূল কথায় আসি।

প্রথম সপ্তাহে আমি বই উঁচু তাকে রেখেছিলাম। বই বের করার প্রলোভন থেকে দূরে রাখতে উঁচু তাকে বা বন্ধ আলমারিতে রাখার পরামর্শ অনেকেই দেন। কিন্তু তিথির ক্ষেত্রে এটা কাজ করেনি। সে আমাকে বলত, “মা, বই নামিয়ে দাও।” নামিয়ে দিলাম, আর সে আবার ছিঁড়ল। তাহলে লাভ কী হল?

দ্বিতীয় সপ্তাহে চেষ্টা করলাম কঠিন শাস্তি দিতে। হ্যাঁ, একদম ব্যর্থ পদ্ধতি। শাস্তির পরের দিন সে আরও বেশি ছিঁড়ল। আসলে, একটু অন্যভাবে বলা দরকার শাস্তি দিলে শিশু আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে না, বরং সে লুকিয়ে করতে শেখে।

এই আচরণ বিকাশের স্বাভাবিক অংশ হলেও এর মানে এই নয় যে কোনো সীমানা থাকবে না। কিন্তু এই অভ্যাস বন্ধ করতে হবে শাস্তি দিয়ে নয়, বরং মৃদু ও কার্যকর পুনর্নির্দেশনার মাধ্যমে।

তৃতীয় সপ্তাহে একটু আলাদা চিন্তা করলাম। একটি পুরনো কার্ডবোর্ডের বাক্সে পুরনো ম্যাগাজিন, অকাজের কাগজ ও খাম রেখে শিশুকে ইচ্ছামতো ছিঁড়তে দেওয়া হয়। শিশুরা ছেঁড়ার অনুভূতিটা সত্যিই উপভোগ করে, এই চাহিদা পূরণ হলে তারা বইয়ের দিকে মনোযোগ কম দেয়। এটা আংশিকভাবে কাজ করল। তবুও স্কুলের পাঠ্যবই ছেঁড়া পুরোপুরি থামল না।

কিছু শিশু বিশেষভাবে কাগজ ছেঁড়ার অভ্যাসে আগ্রহী হয়, কারণ এটি তাদের ইন্দ্রিয় উদ্দীপনা দেয়। এক্ষেত্রে মোটা কার্ডবোর্ডের বই বা ভারী কাগজের বই ঘরে রাখা এবং পাতলা পাতার বই আলাদা ঘরে সরিয়ে রাখা একটি কার্যকর সমাধান।

যদি আপনি বিভিন্ন পদ্ধতি চেষ্টা করে ব্যর্থ হন, তাহলে হাল ছেড়ে দেওয়ার আগে এই একটা কাজ করুন একটি পুরনো পত্রিকার স্তূপ এনে সন্তানের সামনে রাখুন এবং নিজে সেটি একটু ছিঁড়ে দেখান। দেখবেন সে সেখানেই মনোযোগ দেবে।

যেসব কৌশল আসলে কাজ করল: বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া পাঁচটি পথ

আশ্চর্য না? সহজ কৌশলগুলোই বেশি কাজ করে।

প্রথম পথ ছিল একসাথে বই পড়ার সময় তিথির হাত ধরে রাখা। পড়ার সময় শিশুর প্রধান হাতটি ধরে রাখা একটি কার্যকর কৌশল। সেই হাত দিয়ে পাতার ছবি দেখানো যায়, এতে তারা হঠাৎ পাতা ছিঁড়তে পারে না। প্রথম দিন সে একটু অসহিষ্ণু হল, তবুও পাতা ছেঁড়া হল না।

দ্বিতীয় পথে কাজে এল ইন্দ্রিয় পুনর্নির্দেশনা। বিকল্প ইন্দ্রিয় অভিজ্ঞতা যেমন মাটির কাজ বা মুড়মুড়ে খাবার খাওয়া শিশুর ছেঁড়ার চাহিদা পূরণ করতে পারে। এছাড়া ইন্দ্রিয়-বান্ধব মোটা কার্ডবোর্ডের বই তাদের ইন্দ্রিয় উদ্দীপনার চাহিদা মেটাতে পারে।

তৃতীয় কৌশল ছিল বইকে মানবিক করা। বইয়ের পাতা ছেঁড়া হলে সেটাকে আমাদের গায়ে কাটার মতো ব্যথা হয় বলে ছোটদের কাছে উপস্থাপন করা যায়। এই ধারণা পেলে শিশুরা বইয়ের প্রতি মৃদু হতে শেখে। তিথির সাথেও এই পদ্ধতিতে কথা বললাম। সে একটু থেমে গেল।

চতুর্থ পদক্ষেপ নিলাম নিজে আদর্শ হিসেবে। শিশুরা শোনার চেয়ে দেখে বেশি শেখে। বই যত্নে রাখা, পাতা সাবধানে ওল্টানো এবং নিয়মিত পড়ার অভ্যাস দেখালে শিশু সেটাই অনুসরণ করতে থাকে। প্রতিদিন বিকেলে তিথির সামনে নিজে বই খুলে পড়া শুরু করলাম।

পঞ্চম ও সবচেয়ে জরুরি কৌশল ছিল ভালো আচরণের প্রশংসা করা। শিশু যখন দায়িত্বশীলভাবে বই বা খেলনা ব্যবহার করে, তখন তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উৎসাহিত করা উচিত। ছোট্ট একটা “শাবাশ তিথি, বইটা কত সুন্দর করে রেখেছ!” তার চোখ উজ্জ্বল করে দিত।

আমি যে সহজ নিয়মটা মেনে চলি: প্রতিদিন সন্তানের সাথে অন্তত ১৫ মিনিট একসাথে বই পড়ুন, এবং সেই সময়টাকে শাসনের সময় নয়, আনন্দের সময় করুন। আপনিও পরের সপ্তাহেই এটা চেষ্টা করে দেখুন।

তিথির স্কুল শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করে যা জানলাম এবং যৌথ পরিকল্পনা

দেখুন না, স্কুল আর বাড়ি একসাথে কাজ না করলে কোনো সমাধানই স্থায়ী হয় না।

রোগ নির্ণয় বা সমস্যা বোঝার সময় বাবা-মায়ের পাশাপাশি শিক্ষক ও পরিচিতদের কাছ থেকে জানা প্রয়োজন যে শিশু সব জায়গায় একই ধরনের আচরণ করছে কি না। এই পরামর্শটা মাথায় রেখে তিথির শ্রেণিশিক্ষকের সাথে দেখা করলাম।

শিক্ষক জানালেন, তিথি ক্লাসে বই ছেঁড়ে না। শুধু বাড়িতে। এটা একটা বড় সংকেত ছিল। মানে সমস্যাটা পাঠ্যবই নিয়ে নয়, বরং বাড়িতে মনোযোগ ও সঙ্গের অভাব নিয়ে।

শিক্ষকের সাথে একটা তালিকা তৈরি করলাম। কোন বিষয়ের বই তিথি সবচেয়ে বেশি ছেঁড়ে? দেখা গেল গণিত। কারণ জিজ্ঞেস করতে গিয়ে জানলাম, সে গণিত ভালোবাসে না। বইটা ছেঁড়া ছিল তার হতাশা প্রকাশের একটা উপায়।

কারণ লক্ষণ সমাধান
ইন্দ্রিয় উদ্দীপনার চাহিদা যেকোনো বই ছেঁড়ে, বিশেষ সময় নেই বিকল্প ছেঁড়ার উপকরণ দেওয়া
হতাশা ও রাগ প্রকাশ কঠিন বিষয়ের বই বেশি ছেঁড়ে পাঠে সাহায্য করা, চাপ কমানো
মনোযোগ পাওয়ার চেষ্টা একা থাকলে বেশি ছেঁড়ে প্রতিদিন নির্দিষ্ট মনোযোগের সময়
ক্লান্তি ও বিরক্তি স্কুল থেকে ফিরলে বেশি করে বিশ্রাম ও খেলার সময় নিশ্চিত করা
সূক্ষ্ম মোটর দক্ষতার অভাব পাতা ওল্টাতে গিয়ে ছিঁড়ে ফেলে মোটা কার্ডবোর্ডের বই দিয়ে অভ্যাস

শিক্ষকের সাথে আলোচনা করে ঠিক হল, গণিতে প্রতিদিন তিনটির বেশি অংক না করানো এবং প্রতিটি সঠিক উত্তরে শাবাশ দেওয়া। বাড়িতে আমরা একটা নিয়ম করলাম স্কুলের বই বের করার আগে পনেরো মিনিট খেলার সময়

সন্তানের স্কুলের শিক্ষকের সাথে একবার বসে কথা বলুন। মাত্র ১৫ মিনিটের একটি আলোচনা আপনাকে এমন তথ্য দেবে যা বাড়িতে বসে কখনো পাবেন না।

তিন মাস পর তিথির পরিবর্তন এবং ২০২৬ সালের গবেষণা যা আমাকে আশ্বস্ত করেছে

ঠিক এটাই।

তিন মাস পর আজ তিথির স্কুলের বই অক্ষত আছে। সবগুলো। শুধু তাই নয়, সে নিজেই বইয়ের কোণে ভাঁজ পড়লে সেটা সোজা করে রাখে। এই পরিবর্তনটা একদিনে আসেনি। এসেছে ধৈর্য, পর্যবেক্ষণ এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে।

বইয়ের পাতা না ছেঁড়ার শিক্ষা একদিনে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে একটা সময় আসে যখন শিশু নিজেই এই অভ্যাস ছেড়ে দেয় এবং বই পাশে রেখেও নিশ্চিন্তে থাকা যায়। তিথির ক্ষেত্রে সেই সময়টা আসতে লেগেছে প্রায় দশ সপ্তাহ।

বই ছেঁড়ার সময় শিশুরা আসলে আঙুলের ব্যবহার শিখছে, যা তাদের সূক্ষ্ম হস্ত-চালনা দক্ষতা বিকাশে সহায়ক। এই আচরণটি তাই খুব কঠোরভাবে দমন না করে সঠিক পথে পরিচালিত করাই বুদ্ধিমানের কাজ। এই উপলব্ধিটা আমার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছিল।

এটা দেখতে যদিও এলোমেলো ধ্বংসাত্মক আচরণ মনে হয়, আসলে এটি শিশুর কৌতূহলের স্বাভাবিক প্রকাশ। এই আচরণকে সঠিকভাবে পরিচালিত করা, সীমানা নির্ধারণ করা এবং মনোযোগ সরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

আমি “ক” পদ্ধতি বনাম “খ” পদ্ধতি তুলনা করলাম এবং পার্থক্যটা স্পষ্ট: শাস্তিভিত্তিক পদ্ধতিতে তিথির আচরণ সপ্তাহে গড়ে ৫ বার থেকে ৭ বারে বেড়েছিল, আর পুনর্নির্দেশনা পদ্ধতিতে একই সময়ে সেটা ৭ থেকে নেমে ১-এ এসেছে। অনেকে যা ভাবেন ভুল করেন, সেটা হল ধৈর্য হারিয়ে ফেলা। কিন্তু সংখ্যাগুলো নিজেই বলছে পুনর্নির্দেশনার পথ কতটা কার্যকর।

গবেষণা বলছে, শিশুর সূক্ষ্ম হস্ত-চালনা দক্ষতা এবং তার শেখার ফলাফলের মধ্যে একটি ইতিবাচক ও পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক রয়েছে। অর্থাৎ বই ছেঁড়ার মতো আঙুলের কাজে শিশু যে দক্ষতা অর্জন করছে, সেটাকে সঠিক পথে পরিচালিত করলে তা পরবর্তী শিক্ষাজীবনে সত্যিকারের সুফল বয়ে আনে। প্রাপ্তবয়স্কদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং কাঠামোবদ্ধ কার্যক্রম শিশুর মোটর দক্ষতা বিকাশে কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে প্রমাণিত। তাই তিথিকে প্লে-ডো দিয়ে খেলতে দেওয়া, কাগজ ভাঁজ করতে শেখানো এগুলো শুধু সময় কাটানো নয়, এগুলো বিকাশের হাতিয়ার।

শেষ কথা

তিথির গল্পটা আসলে লক্ষ লক্ষ বাবা-মায়ের গল্প। প্রতিটি বাড়িতে কোনো না কোনো তিথি আছে যে বই ছেঁড়ে, দেওয়ালে আঁকে, জিনিসপত্র এলোমেলো করে। এই শিশুরা দুষ্টু নয়, এরা কৌতূহলী। আর কৌতূহলকে শাস্তি দিলে সে মরে যায়, পথ দেখালে সে বিকশিত হয়। দশ সপ্তাহে তিথির আচরণ সপ্তাহে ৭ বার থেকে মাত্র ১ বারে নেমে এসেছে এই সংখ্যাটাই বলে দেয় সঠিক পদ্ধতির শক্তি কতটুকু।

অভিভাবকত্বের ধরন শিশুর সামাজিকীকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, কারণ বাবা-মাই শিশুর প্রাথমিক মানসিক ও শারীরিক বিকাশে সবচেয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলেন। তাই আজই ঠিক করুন রাগের পরিবর্তে পর্যবেক্ষণ, শাস্তির পরিবর্তে পুনর্নির্দেশনা এবং হতাশার পরিবর্তে ধৈর্য। ছোট ছোট পদক্ষেপ, যেমন বিকল্প কার্যকলাপ দেওয়া, প্লে-ডো বা রঙিন কাগজ হাতে তুলে দেওয়া এবং প্রতিটি ভালো আচরণে আন্তরিক প্রশংসা এগুলোই বড় পরিবর্তনের বীজ।

আপনার শিশু হয়তো আজ একটা বইয়ের পাতা ছিঁড়েছে। হয়তো কাল আরেকটা ছিঁড়বে। কিন্তু মনে রাখবেন, যে হাত আজ পাতা ছিঁড়ছে, সেই হাতই একদিন কলম ধরবে, বই লিখবে, স্বপ্ন গড়বে। আপনার কাজ শুধু সেই হাতকে সঠিক পথ দেখানো।

নুসরাত জাহান রিমা

নুসরাত জাহান রিমা একজন গৃহিণী ও অভিভাবক ব্লগার, যিনি ঢাকায় বসবাস করেন। নিজের সন্তানের প্রি-স্কুলে ভর্তি ও প্রাথমিক শিক্ষাজীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে তিনি নিয়মিত তথ্যভিত্তিক ও সহায়ক লেখা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি অন্যান্য অভিভাবকদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শও তিনি তাঁর ব্লগে তুলে ধরেন, যাতে নতুন অভিভাবকেরা সহজে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

এই মুহূর্তে অন্যরা যা পড়ছে

আমাদের মেয়ে রাতে পড়ার পর ঘুমাতে চায় না.png

আমাদের মেয়ে রাতে পড়ার পর ঘুমাতে চায় না: আমরা পরিবারের সদস্যরা মিলে যেভাবে এই সমস্যার সমাধান করলাম

June 11, 2026
আমাদের ছেলে খেলাধুলা করতে চায়না.png

আমাদের ছেলে খেলাধুলা করতে চায়না: পরিবারের সদস্যরা মিলে যেভাবে এই সমস্যার সমাধান করলাম

June 7, 2026
স্কুল থেকে এসে বাসায় পড়তে চায় না.png

আমাদের ৫ বছরের ছোট ছেলে স্কুল থেকে এসে বাসায় পড়তে চায় না,কিন্তু স্কুলে পড়াশোনা ঠিকভাবে করেঃ সমস্যার সমাধান যেভাবে করলাম

June 6, 2026
বাচ্চা স্কুলে যেতে চায় না.png

বাচ্চা স্কুলে যেতে চায় না: আমি আর আমার স্বামী যেভাবে এই সমস্যার সমধান করলাম

June 4, 2026
শিক্ষিকাদের সাথে মতবিরোধ.png

শিক্ষিকাদের সাথে মতবিরোধ: প্রি-স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে কোনো বিষয়ে দ্বিমত হলে যেভাবে আলোচনা করা উচিত (কেস স্টাডি)

June 3, 2026
অন্তর্মুখী শিশু.png

অন্তর্মুখী শিশু: প্রি-স্কুলের প্রথম ২ মাসে বাচ্চার সামাজিক জড়তা ও লাজুকতা কাটানোর আমাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা

May 31, 2026

Leave a Comment