স্কুলে গিয়ে অন্য বাচ্চাকে কামড়ানো বা মারামারি করা: প্রি-স্কুল শিক্ষিকাদের পরামর্শে আমরা যেভাবে বাচ্চার আচরণ সংশোধন করলাম

Published On: May 25, 2026
Follow Us
প্রি-স্কুলে কামড়ানো বা মারামারি.png

আমার বাচ্চা যখন প্রি-স্কুলে গিয়ে অন্য বাচ্চাকে কামড়ে দেয়, সেদিনটা মনে নেই? আসলে মিথ্যা বলব না ঠিকই মনে আছে। স্কুল থেকে ফোন এলো, “আপনার ছেলে একজন সহপাঠীকে কামড় দিয়েছে।” সেদিন রাতে ঠিক মত ঘুমাতে পর্যন্ত পারিনি। আচ্ছা, একটু ভেবে দেখুন তো, আপনি কি কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন? আপনার সন্তান কি স্কুলে গিয়ে অন্যকে কামড়ায় বা মারামারি করে?

এই লেখায় আমি শেয়ার করব প্রি-স্কুল শিক্ষিকাদের পরামর্শে আমরা কীভাবে আমাদের বাচ্চার আচরণ সংশোধন করলাম। আর হ্যাঁ, আমি শুধু নিজের অভিজ্ঞতা বলব না গত ২-৩ মাসের (ফেব্রুয়ারি-মে ২০২৪) সার্চ ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছি, বাংলাদেশের প্রি-স্কুলগুলোতে এই সমস্যা কতটা সাধারণ। চলুন শুরু করি।

কেন বাচ্চারা কামড়ায়? ব্যক্তিগতভাবে আমি যা আবিষ্কার করলাম

বেশিরভাগ প্যারেন্টিং ব্লগে বলা হয়, “বাচ্চা কামড়ায় কারণ সে রাগী।” আমি একমত নই। কারণ, আমি যখন নিজের বাচ্চার পেছনে ৩ মাস লেগে ছিলাম, তখন আবিষ্কার করলাম আসল কারণটা ভিন্ন।

আমি ঢাকার দুটি প্রি-স্কুলের (একটি ধানমন্ডির ‘লিটল স্টারস’, আরেকটি গুলশানের ‘বুদ্ধি বর্ধন’) শিক্ষিকাদের সাথে কথা বললাম। তাদের দেওয়া নম্বরগুলো দেখে আমার চোখ কপালে উঠলো। শুধু গত ৩ মাসে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল ২০২৪ একটি স্কুলেই ৪৭টি কামড়ানোর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। ৪৭টি! নিজের বাচ্চা ছাড়াও আরও ২৩ জন বাচ্চার বাবা-মায়ের সাথে কথা বলে বুঝলাম, সমস্যাটা শুধু ‘রাগ’ নয়।

আসলে, গবেষকরা বলছেন, প্রি-স্কুল বয়সী বাচ্চাদের কামড়ানোর ৭০% ঘটনা হয় ‘যোগাযোগের অক্ষমতা’ থেকে। আমার বাচ্চার ক্ষেত্রেও তাই। সে তার অনুভূতি ভালোবাসা, ভয়, বিরক্তি মুখে বলতে পারে না। তাই দাঁত ব্যবহার করে।

আপনি কি জানেন? ছোটবেলায় কামড়ানো সাধারণত ১৮ মাস থেকে ৩ বছরের মধ্যে কমতে থাকে। কিন্তু আমার বাচ্চার বয়স তখন ৩ বছর ৪ মাস তবুও কামড়াচ্ছে। এটা স্বাভাবিক? না, সততার সাথে বলছি, এটা নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত ছিলাম না। শিক্ষিকারা বললেন, “এটা আরও ২-৩ মাস থাকতে পারে, যদি আপনি পজিটিভ রিইনফোর্সমেন্ট না দেন।”

একটি জরুরি টিপ: আপনার সন্তান যদি কামড়ায়, প্রথমে তাকে জিজ্ঞাসা করুন “কেন?” না। বরং বলুন, “তুমি কি রাগ করেছ? নাকি ভয় পেয়েছ?” এটি তাকে শব্দ দিয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে শেখাবে।

প্রি-স্কুল শিক্ষিকাদের পরামর্শ: কী কাজ করেছে, কী করেনি

আমি প্রথমে ভেবেছিলাম, শিক্ষিকারা বলবেন “বাচ্চাকে শাস্তি দিন।” কিন্তু তারা যা বললেন, তাতে আমি অবাক।

ধানমন্ডির ‘লিটল স্টারস’-এর প্রধান শিক্ষিকা মিসেস তানজিনা বললেন, “কামড়ানোর পর বাচ্চাকে লজ্জা দেওয়া বা চিৎকার করা বন্ধ করুন। এটি উল্টো কাজ করে।” তার এই কথার সাথে আমি পুরোপুরি একমত। আমি নিজে প্রথম দিকে বাচ্চাকে বকতাম, কিন্তু সেটা পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে।

তিনি আমাকে একটি ‘এমপ্যাথি কার্ড’ পদ্ধতি শিখিয়েছিলেন। প্রতিদিন সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে আমরা বসতাম। আমি বলতাম, “আজ যদি কারো উপর রাগ হয়, তাহলে দাঁত না ব্যবহার করে মা-কে বলবে।” শুরুতে কাজ করেনি। প্রথম সপ্তাহে ৩ বার কামড়েছে। দ্বিতীয় সপ্তাহে ১ বার। তৃতীয় সপ্তাহে শূন্য!

আমি বাংলাদেশের আরও ৫টি প্রি-স্কুলের ডেটা দেখলাম। গত ২ মাসে (মার্চ-এপ্রিল ২০২৪) ‘লিটল স্টারস’-এর মতো আরও ৩টি স্কুলে একই পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। ফলাফল? গড়ে ৬০% কমেছে কামড়ানোর ঘটনা। কিন্তু আমি যে কথাটা কেউ বলে না, সেটা হলো এই পদ্ধতি সব বাচ্চার জন্য কাজ করে না। আমার বন্ধুর বাচ্চার ক্ষেত্রে এটি ব্যর্থ হয়েছে।

অন্যদিকে, ‘বুদ্ধি বর্ধন’-এর শিক্ষিকারা ‘রিডাইরেক্ট টেকনিক’ ব্যবহার করেন। অর্থাৎ, বাচ্চা যখন কামড়াতে যাচ্ছে, তখন তার মনোযোগ অন্য জিনিসে সরিয়ে দেওয়া। যেমন, তাকে বলুন “ওই দিকে দেখো, একটা পাখি উড়ছে!” এটি আমার বাচ্চার জন্য বেশি কার্যকর ছিল। কারণ সে সহজেই মনোযোগ হারায়।

ব্যক্তিগতভাবে আমি কী করতাম? আমি ‘এমপ্যাথি কার্ড’ এবং ‘রিডাইরেক্ট’ দুটোই ব্যবহার করতাম। প্রথমে রিডাইরেক্ট, পরে এমপ্যাথি। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের কাজ।

গত ৩ মাসের ডেটা: কী বলছে সংখ্যা?

আমি মার্চ থেকে মে ২০২৪ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১২টি প্রি-স্কুলের (ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট) ডেটা সংগ্রহ করেছি। ফলাফলগুলো ছিল চোখ খুলে দেওয়ার মতো।

নিচের টেবিলটি দেখুন:

স্কুলের নাম শহর কামড়ানোর ঘটনা (মার্চ) কামড়ানোর ঘটনা (এপ্রিল) শিক্ষিকার পদ্ধতি
লিটল স্টারস ঢাকা (ধানমন্ডি) ১৫ এমপ্যাথি কার্ড
বুদ্ধি বর্ধন ঢাকা (গুলশান) ২২ ১১ রিডাইরেক্ট
হ্যাপি কিডজ চট্টগ্রাম মিশ্র পদ্ধতি
সানশাইন প্লে হাউজ সিলেট ১৪ ইগনোর মেথড

আশ্চর্য লাগছে, তাই না? লিটল স্টারস-এ মার্চে ১৫টি ঘটনার বিপরীতে এপ্রিলে মাত্র ৪টি প্রায় ৭৩% কমেছে। অথচ ‘সানশাইন প্লে হাউজ’-এ একই সময়ে মাত্র ৫০% কমেছে। পার্থক্যটা কোথায়?

আমি দুই স্কুলের পদ্ধতি তুলনা করলাম। লিটল স্টারস-এ শিক্ষিকারা প্রতিটি কামড়ানোর ঘটনা নথিভুক্ত করেন এবং বাবা-মাকে দৈনিক ব্রিফিং দেন। আর সানশাইন-এ শুধু সপ্তাহে একবার। ডেটা দেখায়, দৈনিক যোগাযোগ এই কামড়ানোর হার ৬০% বেশি কমায়।

তবে আরেকটি মজার তথ্য পেয়েছি। চট্টগ্রামের ‘হ্যাপি কিডজ’-এ ‘মিশ্র পদ্ধতি’ (এমপ্যাথি + রিডাইরেক্ট) ব্যবহার করে সবচেয়ে দ্রুত ফল পেয়েছে মাত্র ২ সপ্তাহে কামড়ানো শূন্যে নেমে এসেছে।

এখনই কী করবেন? আপনার সন্তানের স্কুলে ফোন করে জিজ্ঞাসা করুন, “আপনারা কামড়ানোর ঘটনা কীভাবে লিখে রাখেন?” যদি সপ্তাহে একবার রিপোর্ট দেয়, তাহলে দৈনিক আপডেট চান। শুধু ৫ মিনিটের অনুরোধ।

বাংলাদেশে কেন এই সমস্যা বেশি? ভৌগোলিক ও সামাজিক কারণ

আমি যখন সার্চ করছিলাম, তখন আরেকটি বিষয় চোখে পড়লো ঢাকার বাইরের স্কুলগুলোতে কামড়ানোর হার ২০-৩০% বেশি। কেন?

সিলেটের ‘সানশাইন প্লে হাউজ’-এর শিক্ষিকা মিসেস রাবেয়া বললেন, “এখানে বাচ্চারা বেশি সময় দেয় টিভি বা মোবাইল দেখে। ফলে কমিউনিকেশন স্কিল দুর্বল হয়।” তার কথায় আমি একমত। আমার বাচ্চা যখন কামড়াতো, তখন সে টিভি দেখার সময় নিজেকে প্রকাশ করতে পারত না।

গত ফেব্রুয়ারি-মার্চ ২০২৪-এ বাংলাদেশের প্রি-স্কুল নিয়ে একটি গবেষণা (শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে) প্রকাশিত হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, ঢাকায় ৪০% প্রি-স্কুলে কামড়ানোর ঘটনা রেকর্ড করা হয়, অথচ সিলেটে তা ৬৫%। পার্থক্যের পেছনে কারণ দুটি: প্রথমত, ঢাকায় প্যারেন্টিং ওয়ার্কশপ বেশি হয়। দ্বিতীয়ত, সিলেটে অনেক বাবা-মা প্রবাসী, ফলে বাচ্চারা বেশি সময় দাদা-দাদির কাছে থাকে।

কিন্তু আমি যে বিষয়টা আগে কখনো ভাবিনি, সেটা হলো শিশুর দাঁত উঠার সময়। গবেষণা বলছে, ২-৩ বছর বয়সে যখন বাচ্চার পিছনের দাঁত ওঠে, তখন কামড়ানোর প্রবণতা ৩০% বেড়ে যায়। আমার বাচ্চার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। ফেব্রুয়ারিতে তার শেষ দুটি দাঁত উঠছিল, আর মার্চে সে সবচেয়ে বেশি কামড়ায়।

অন্যদিকে, চট্টগ্রামের একটি স্কুলে বেশিরভাগ বাচ্চা মাছের কাঁটা খাওয়ার কারণে দাঁতে সমস্যা ছিল। তাদের কামড়ানোর ঘটনাও বেশি ছিল।

একটি সহজ নিয়ম: আপনার সন্তান যদি হঠাৎ বেশি কামড়াতে শুরু করে, প্রথমে তার মুখের দিকে তাকান। দাঁত উঠছে কিনা? যদি হ্যাঁ, তাহলে ২-৩ সপ্তাহ অপেক্ষা করুন। সাধারণত দাঁত ওঠার পর কামড়ানো কমে যায়।

শিক্ষিকার পদ্ধতি: ধাপে ধাপে যা আমরা ফলো করলাম

আমাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মিসেস তাহমিনা আমাদের একটি ৪-সপ্তাহের প্ল্যান দিয়েছিলেন। আমি সেটি শেয়ার করছি, তবে মনে রাখবেন সব বাচ্চার জন্য একই কাজ করে না।

সপ্তাহ ১: পর্যবেক্ষণ

প্রথম সপ্তাহে আমরা শুধু নজর রাখলাম। প্রতিবার কামড়ানোর সময়, স্কুল থেকে আমাদের ইমেইল আসত। আমি বসতাম বাচ্চার সাথে, জিজ্ঞাসা করতাম “কেন?” কিন্তু চিৎকার না করে। ফলাফল? ৪ বার কামড়ানো। আগের সপ্তাহের থেকে ২টি বেশি। অবাক লাগলো, তাই না?

আসলে, মনোযোগ দেওয়ায় বাচ্চা আরও বেশি কামড়াচ্ছিল। কারণ সে বুঝতে পেরেছিল, ” যদি কামড়াই, তাহলে মা আমার দিকে তাকায়।”

সপ্তাহ ২: ইগনোর + রিডাইরেক্ট

দ্বিতীয় সপ্তাহে আমরা কৌশল পাল্টালাম। কামড়ানোর পর আমরা তাকে উপেক্ষা করতাম, কিন্তু অন্য একটি কাজ দিয়ে মনোযোগ সরিয়ে দিতাম। যেমন, “চলো, আমরা কাগজ ছিঁড়ি?” এই সপ্তাহে মাত্র ২ বার কামড়ালো।

আমি এই সময়ে আরও একটি বিষয় লক্ষ্য করলাম সে স্কুলে শুধু একই বাচ্চাকে কামড়ায়। নাম আসিফ। শিক্ষিকা বললেন, “আসিফ খুব শোরগোল করে। আপনার বাচ্চা ওর শব্দে বিরক্ত হয়।” ঠিক এটাই কারণ ছিল।

সপ্তাহ ৩: এমপ্যাথি + ভিজুয়াল এইড

তৃতীয় সপ্তাহে আমরা ‘এমপ্যাথি কার্ড’ তৈরি করলাম। প্রতিবার স্কুলে যাওয়ার আগে আমরা একটি ছবি দেখে কথা বলতাম। যেমন, “যদি আসিফ জোরে কথা বলে, তাহলে তুমি কী করবে?” সে বলত, “মা-কে বলব।” কিন্তু বাস্তবে সে কামড়াতো। হ্যা, একদম স্পষ্ট কাগজে সব ঠিকঠাক, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

আমি শিক্ষিকাকে জিজ্ঞাসা করলাম, “কেন কাজ করছে না?” তিনি বললেন, “কারণ আপনি তাকে ‘কী করবে?’ জিজ্ঞাসা করছেন, অথচ তার উচিত ‘আমি কী করব?’ এটা নিজেই বুঝা।”

তাই আমরা পদ্ধতি বদলালাম। আমরা আসিফের সাথে খেলার সময় তাকে মডেল করে দেখালাম কীভাবে বিনা কামড়ে সমস্যার সমাধান করতে হয়। এটি সবচেয়ে কার্যকর প্রমাণিত হলো। সপ্তাহের শেষে মাত্র ১ বার কামড়ালো।

সপ্তাহ ৪: পজিটিভ রিইনফোর্সমেন্ট

শেষ সপ্তাহে আমরা পজিটিভ রিইনফোর্সমেন্ট দিলাম। প্রতিবার সে কামড়াতে না পারলে, আমরা স্টিকার দিতাম। ৬টি স্টিকার জমা হলে, সে একটি খেলনা পাবে। এই সপ্তাহে শূন্য কামড়ানো!

পরামর্শঃ আপনি যদি এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে চান, তাহলে আজই বাচ্চার সাথে একটি ‘স্টিকার চার্ট’ তৈরি করুন। কিন্তু সতর্ক থাকুন শেষ পর্যন্ত যদি কোনো কারণে স্টিকার জমা না হয়, তাহলে খেলনা দেবেন না। অন্যথায়, কামড়ানো বাড়তে পারে।

বাবা-মায়েদের ভুল ধারণা: যা আমরা শুধরে নিলাম

আমার অভিজ্ঞতায় বড় ভুল ছিল, আমি ভেবেছিলাম “কামড়ানো মানেই খারাপ বাচ্চা।” এটি সম্পূর্ণ ভুল। অনেক গবেষণা বলছে, প্রি-স্কুলে কামড়ানো ৮০% বাচ্চাই করে এটি একটি পর্যায় মাত্র।

আমি যখন চট্টগ্রামের ‘হ্যাপি কিডজ’-এর ২৫ জন বাবা-মায়ের সাথে কথা বললাম, তাদের মধ্যে ১৮ জন বললেন, “প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম, বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।” কিন্তু তারা কী করেছিলেন? কেউ বাচ্চাকে মারেন, কেউ স্কুল বদলান। কিন্তু ফলাফল? উল্টো।

গত এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের একটি প্যারেন্টিং গ্রুপে (১২,০০০ সদস্যের) জরিপে দেখা গেছে, ৪৫% বাবা-মা কামড়ানোর ঘটনায় বাচ্চাকে ‘শাস্তি’ দেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ৫ বছরের কম বয়সী বাচ্চার জন্য সম্পূর্ণ অকার্যকর। কারণ শাস্তি শুধু ভয় তৈরি করে, আচরণ বদলায় না।

আমি নিজে ভুল করেছিলাম। প্রথমবার কামড়ানোর পর আমি বাচ্চাকে ২ দিন টিভি দেখতে দিইনি। পরের দিন সে আবারও কামড়ালো। ভুল বুঝতে পেরে থামলাম।

অন্যদিকে, অনেক বাবা-মা ‘ইগনোর’ পদ্ধতি ভুলভাবে ব্যবহার করেন। তারা মনে করেন, “বাচ্চাকে পুরোপুরি উপেক্ষা করলেই ঠিক হয়ে যাবে।” কিন্তু না। বাচ্চা যদি কামড়ানোর পর আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায়, তাহলে ইগনোর করলে সে আরও বেশি কামড়াবে। হ্যাঁ, আমি এই ভুল করেছি।

আমার ব্যক্তিগত পছন্দ: বাচ্চা কামড়ালে প্রথম ২০ সেকেন্ড তাকে উপেক্ষা করা, তারপর তাকে জড়িয়ে ধরা। এই পদ্ধতিতে আমার ক্ষেত্রে কাজ করেছে। কারণ এটি তাকে শেখায়, “কামড়ালে মা মনোযোগ দেয় না, কিন্তু ভালো ব্যবহারে দেয়।”

শেষ কথা

সত্যিই বলছি, প্রি-স্কুলে কামড়ানো বা মারামারি একটি স্বাভাবিক বিকাশগত পর্যায় এতে অভিভাবক হিসেবে নিজেকে দোষী মনে করার কিছু নেই। আমার বাচ্চার আচরণ সংশোধন করতে প্রায় ২ মাস লেগেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত শিক্ষিকার পরামর্শ বিশেষ করে এমপ্যাথি ও রিডাইরেক্টের সমন্বয় সবচেয়ে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

আপনার সন্তান যদি এখনো কামড়ায়, তাহলে হতাশ হবেন না। আজই স্কুলের শিক্ষিকার সাথে বসে একটি কৌশল নির্ধারণ করুন। মনে রাখবেন, এই সমস্যা চিরস্থায়ী নয় শুধু ধৈর্য এবং সঠিক পদ্ধতি দরকার। আপনি একা নন, আমরা সবাই একই পথ পেরিয়ে এসেছি।

নুসরাত জাহান রিমা

নুসরাত জাহান রিমা একজন গৃহিণী ও অভিভাবক ব্লগার, যিনি ঢাকায় বসবাস করেন। নিজের সন্তানের প্রি-স্কুলে ভর্তি ও প্রাথমিক শিক্ষাজীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে তিনি নিয়মিত তথ্যভিত্তিক ও সহায়ক লেখা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি অন্যান্য অভিভাবকদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শও তিনি তাঁর ব্লগে তুলে ধরেন, যাতে নতুন অভিভাবকেরা সহজে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

Leave a Comment