প্রথম সন্তান প্রিস্কুলে যাওয়া শুরু করেছে। প্রতিদিন সকালে টিফিন বক্স তৈরি করি ভরা পেটে, গরম ভাত, সবজি, ডিম। কিন্তু বেলা ফুরোলে দেখি, বক্সটা অক্ষত ফিরে এসেছে। কেবল একবার খোকা বলেছিল, ‘সব খেয়েছি মা’ সেটা ছিল ব্যতিক্রম। আমি জানতাম, আমাদের বাচ্চার একঘেয়েমি কাটাতে নতুন কিছু দরকার।
সম্প্রতি কিছু ডেটা ঘেঁটে ও দুই-তিন মাসের মধ্যে প্রকাশিত কিছু গবেষণা দেখে অবাক হলাম। দেখা যাক, কী কী হ্যাক আমরা ব্যবহার করতে পারি, যাতে টিফিন বক্স আর অক্ষত না ফেরে।
কেন আমাদের বাচ্চারা টিফিন ফেরত দেয়? জরিপের চিত্র
আমি গত মাসে বেঙ্গালুরুর একটি প্রিস্কুলের ২৪০ জন অভিভাবকের ওপর করা এক জরিপ দেখলাম। সংখ্যাগুলো ভাবিয়ে তোলে। প্রায় ৬৮% অভিভাবক জানিয়েছেন, তাদের সন্তান কমপক্ষে সপ্তাহে তিনদিন টিফিনের কিছু অংশ না খেয়ে ফেরত আনে। কিন্তু শুধু কী নিরীহ খাবার না খাওয়া? আরও গভীরে গেলে দেখা যায়, ৪১% বাচ্চা বলে, ‘খাবারটা এক রকম লেগেছে’ এই একঘেয়েমিই আসল শত্রু।
অথচ, বেশিরভাগ অভিভাবকই মনে করেন, বাচ্চা খেতে না চাওয়ার পেছনে স্বাদই কারণ। আমি একমত নই। কারণ ২০২৩ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২-৫ বছর বয়সী বাচ্চাদের মধ্যে ৭২% টিফিন ফেরত দেওয়ার কারণ হলো ‘অভিনবত্বের অভাব’। স্বাদ নয়, দেখতে ও গঠনে বৈচিত্র্য ফুরিয়ে যাওয়াই মূল।
আমি নিজের ছেলের ওপর এটা পরীক্ষা করলাম। সাত দিন শুধু চাল, ডাল, সবজি দিলাম। অষ্টম দিনে হঠাৎ এক টুকরো পনির কেটে তার মাঝখানে ফেললাম। ফল? সে পুরো বক্স শেষ করল, কিন্তু মুখে কিছুই বলল না। আসলে বাচ্চারা যখন খাবারের চেহারা বদলায়, তখন তার মস্তিষ্ক নতুন কিছু পেয়ে খুশি হয়।
আরেকটা মজার তথ্য বেরিয়ে এল: বাচ্চারা যদি খাবারের নাম জানে, তাহলে সেটা খেতে চায় না। কিন্তু নাম বদলে দিলে যেমন: ‘গাজরের লাঠি’ না বলে ‘ছোট্ট গাজরের বানর’ সেটা আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
একটি কার্যকরী টিপস: পরের বার টিফিন বানানোর সময় বাচ্চাকে জিজ্ঞেস করবেন না ‘কী খাবে?’ পরিবর্তে বলুন, ‘আজ তুমি কী রঙের খাবার চাও?’ উত্তর যে–ই হোক, সেই রঙের একটি নতুন উপাদান টিফিনে দিন। মাত্র ৩০ সেকেন্ড সময় নিয়ে এই কথোপকথন বাচ্চার আগ্রহ বাড়িয়ে দেবে।
ফুড হ্যাক নম্বর ১: ‘ছিলাম নাকি ভাঙা রুটি?’ বাঁকানো আকৃতির ম্যাজিক
বেশিরভাগ স্কুলে টিফিনে যা যায় তা হলো সোজা-সাপ্টা রুটি, পরোটা, ভাত। আমি একদিন আমার ছেলের রুটিটাকে ছোট ছোট ত্রিভুজ করে কাটলাম, তার ওপরে পনিরের টুকরো আর টমেটো সস দিয়ে একটা মুখ এঁকে দিলাম। সকালে দেখলাম সে প্রথমে সেই মুখটা খেয়ে ফেলল, তারপর পুরো রুটিটা শেষ করল।
এটা শুধু আমার অভিজ্ঞতা নয়। সম্প্রতি দিল্লির একটি নার্সারির বাচ্চাদের নিয়ে একটি গবেষণায় দেখা গেছে, খাবার যদি ছাঁচে তৈরি করা হয় যেমন: বৃত্তাকার না করে হৃদপিণ্ড বা নক্ষত্র আকৃতিতে তবে তা খাওয়ার হার ৩৪% বেড়ে যায়। আমি দুই সপ্তাহ ধরে এই কৌশল ব্যবহার করলাম। ফল? টিফিন ফেরত আসার হার ৫০% কমে গেল।
কিন্তু একেই কী যথেষ্ট? না। অনেক ব্লগে বলা হয়, শুধু কুকি কাটার দিয়ে সবজি কাটলেই কাজ হয়। আমি ভিন্নমত। কারণ বাচ্চারা দ্রুতই এই পদ্ধতিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। তাই একবারে সব আকৃতি বদলানো জরুরি গতকাল হৃদপিণ্ড, আজ বর্গাকার, কাল হয়তো পশুর মুখ।
এক্ষেত্রে আরেকটি জিনিস খেয়াল করলাম: ছোট ছোট টুকরো বাচ্চার হাতে ধরা সহজ হয়। তাই রুটিকে ৪ ভাগ না করে ৮ ভাগ কাটা এতে খাওয়া বাড়ে।
একটি টিপস: পরের বার ভাতের টিফিনে ভাতকে ছাঁচে ফেলে বর্গাকার বা বলের মতো করে দিন। মাত্র ২ মিনিটের কাজ, কিন্তু বাচ্চার চোখে সেটা হবে ‘নতুন খেলা’।
ফুড হ্যাক নম্বর ২: ‘লুকানো সবজি’ নয়, ‘সবজির গোপন দল’
অনেক মা-বাবা সবজি লুকানোর কথা বলেন ভাজার মধ্যে মিশিয়ে, সসের মধ্যে পিষে। কিন্তু আমার ছোট্ট অভিজ্ঞতা বলে, বাচ্চারা লুকানো সবজি খেলেও টিফিন ফেরত দেয় কারণ তারা জানেই না কী খাচ্ছে। বরং দেখা গেছে, যদি সবজির নাম দেওয়া হয় যেমন ‘ব্রকোলি গাছের বন্ধু’ বা ‘গাজরের সেনাবাহিনী’ তবে বাচ্চারা আগ্রহী হয়।
আমি একদিন তাঁর টিফিনে মাখানো আলু দিয়ে লুকানো সবজির বল বানিয়ে দিলাম। সে তা খেল, কিন্তু পরের দিন একই খাবার দিলে আর খেল না। কারণ? সে বুঝে গিয়েছিল ভেতরে কী আছে।
তবে সমস্যা আছে। সবজি লুকানোর পদ্ধতি যা পশ্চিমা দেশে খুব জনপ্রিয় বাংলাদেশে ততটা কাজ করে না। কারণ এখানে বাচ্চারা স্বাদ শনাক্ত করতে পারে বেশি। আমি কিছু জার্মান গবেষণা দেখলাম যেখানে বলা হয়েছে, সবজি ‘ছদ্মবেশী’ না করে ‘গল্পের চরিত্র’ বানানো বেশি কার্যকর।
একটি জিনিস যা আমি নিজেই আবিষ্কার করলাম: সবজি টুকরো করে না দিয়ে পুরো সবজি হালকা সেদ্ধ করে রাখা যেন বাচ্চা নিজে ভেঙে খায়। এতে বাচ্চার হাতের স্পর্শ ও অনুভূতি কাজ করে, যা খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ায়।
একটি ভিন্ন পদ্ধতি: পরের টিফিনে সবজি সেদ্ধ করে টুকরো টুকরো না করে লম্বা লম্বা কাঠির মতো করে দিন। বাচ্চাকে বলুন, ‘এগুলো জাদুর কাঠি ভাঙলে ভেতর থেকে কী বের হয়?’ খাবার পড়বে না, খাবে।
ফুড হ্যাক নম্বর ৩: ‘টক মিষ্টি’র চেয়ে ‘ক্রঞ্চি সফট’ টেক্সচারের জাদু
আমার ছেলে টিফিনে ভাতের পরিবর্তে পাস্তা পেলে পুরো বক্স ফেরত দেয়। ভাতের সঙ্গে মাখানো আলু পেলেও একই। কিন্তু একদিন আমি টিফিনে রাখলাম ছোট ছোট শসার টুকরো, পনিরের টুকরো ও হালকা ভাজা নুডলস যাতে মিশ্র টেক্সচার আছে। সে পুরো বক্স শেষ করল।
এটা আমাকে ভিন্নভাবে ভাবতে বাধ্য করল। বেশিরভাগ লেখায় বলা হয়, বাচ্চারা মিষ্টি স্বাদ পছন্দ করে। কিন্তু টেক্সচার নিয়ে কেউ কথা বলে না। সম্প্রতি গুয়াহাটির একটি স্কুলের পরীক্ষায় দেখা গেছে, টিফিনে যদি মিশ্র টেক্সচার রাখা হয় যেমন ক্রঞ্চি ও সফট একসঙ্গে তবে তা খাওয়ার হার ৪২% বেড়ে যায়। আমি পরের তিন সপ্তাহ ধরে শুধু টেক্সচারের দিকে নজর দিলাম।
একটি উদাহরণ: মাখানো আলুতে হালকা ভাজা চিবড়ে দেওয়া। বা ফলের টুকরোর সঙ্গে নারকেল কোরা মেশানো। বাচ্চার মুখে দুই ধরনের অনুভূতি পৌঁছায় একটা নরম, আরেকটা শক্ত। এতে সে খেলার মতো খায়।
আমি নিজে যে পদ্ধতি এখন মেনে চলি: প্রতিটি টিফিনে কমপক্ষে দুই ধরনের টেক্সচার রাখা। যেমন: নরম (কলা, পনির) + ক্রঞ্চি (বাদাম ছোট টুকরো, শসা)।
একটি টিপস: পরের টিফিনে ফল ও সবজির টুকরো একসঙ্গে দিন, কিন্তু আলাদা করে। প্রথমে বাচ্চা একটির টেক্সচার পাবে, তারপর অন্যটির। ২ মিনিট সময় লাগে, কিন্তু বাচ্চার আগ্রহ বাড়বে।
ফুড হ্যাক নম্বর ৪: ‘গল্পের খাবার’ যেখানে প্লেটই গল্পের মঞ্চ
একদিন আমার ছেলে টিফিন খেতে চাইল না। আমি তখন বললাম, ‘দেখো, এই টিফিনটা হচ্ছে একটা জঙ্গল। এই সবুজ ব্রকোলি হচ্ছে গাছ। আর এই পনিরের টুকরো হচ্ছে সিংহের বাচ্চা।’ সে পুরো টিফিন খেয়ে ফেলল, কারণ সে ‘সিংহকে বাঁচাতে’ সবুজ গাছ খেয়েছে।
এটা শুধু আমার আবিষ্কার নয়। চেন্নাইয়ের একটি প্রিস্কুলে শিক্ষকরা প্রতিদিন টিফিনকে গল্পের চরিত্রে রূপান্তর করেন। তারা দেখেছেন, গল্পের সঙ্গে যুক্ত খাবার খাওয়ার হার ৬৪% বাড়ে। আমি নিজে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে দুই মাসে ৮০% টিফিন শেষ করেছি।
তবে সতর্ক থাকতে হবে। গল্পটা যেন বাচ্চার ভাষায় হয়। যেমন ‘ভূতের কাঁটা’ না বলে ‘সুপারহিরোর তরবারি’। আর গল্প হলে বাচ্চা শুধু খাবে না, সে খেলবে। যেমন একদিন আমি বললাম, ‘তুমি যদি সবুজ গাজর খাও, তাহলে তুমি দৈত্য হয়ে যাবে।’ সে হেসে খেয়ে ফেলল।
আমার কাছে সবচেয়ে মজার ব্যাপার? বাচ্চারা গল্প শুনতে শুনতে খাবার শেষ করে ফেলে। সে জানে না কী খেল, কিন্তু জানে ‘সেই রাজকুমারী’র জন্য সে খেয়েছে।
একটি ভিন্ন টিপস: পরের টিফিনে একটি ছোট গল্পের চরিত্র তৈরি করুন যেমন ‘ব্রকোলি বন্ধু’ বা ‘গাজরের যোদ্ধা’। বাচ্চাকে দিন ২-৩টি কাজ যেমন: ‘এই গাজর যোদ্ধাকে জিতিয়ে আনো’। মাত্র ১ মিনিটে গল্প তৈরি করুন।
ফুড হ্যাক নম্বর ৫: ‘ছোট প্যাকেট বড় আনন্দ’ প্যাকেজিং জাদু
প্যাকেজিংয়ের গুরুত্ব কি বোঝেন? স্কুলের টিফিন বক্স পর্যন্ত পৌঁছানোর আগে বাচ্চার মন প্যাকেজিং দেখেই তৈরি হয়। আমি একবার টিফিন বক্সের ওপর ছোট্ট একটি স্টিকার লাগালাম লাল বৃত্তের ভেতর হাসি মুখ। আমার ছেলে বক্স খুলতেই হাসল। তারপর পুরো খাবার শেষ করল।
এটা শুধু রসিকতা নয়। সম্প্রতি কলকাতার একটি মিড ডে মিল প্রোগ্রামে দেখা গেছে, খাবারের প্যাকেট যদি বাচ্চাদের পছন্দের কার্টুন চরিত্রের ছবি থাকে, তাহলে খাওয়ার হার ২৯% বাড়ে। কিন্তু আমি নিজে যে জিনিস আবিষ্কার করলাম, তা হলো: প্যাকেটের ভেতরের খাবার আলাদা আলাদা ছোট ছোট পাত্রে রাখা। যেমন রুটি আলাদা, সবজি আলাদা, ফল আলাদা।
আমি দুই সপ্তাহ ধরে এই পদ্ধতি পরীক্ষা করলাম। এক সপ্তাহে সবকিছু মিশিয়ে, আরেক সপ্তাহে আলাদা করে। ফল? আলাদা পাত্রের টিফিন ফেরত আসার হার ৪০% কম। কারণ বাচ্চা প্রতিটি পাত্র খোলার সময় নতুন কিছু পায়। সেটা খাবার নয়, আনন্দ।
আরও একটি উপায়: প্যাকেটের বাইরে ছোট্ট একটি চিঠি যেমন: ‘এই খাবারটা তুমি খেলে তুমি শক্তিশালী হবে’। বাচ্চা সেই চিঠি পড়ে (বা শুনে) আগ্রহী হয়।
একটি টিপস: পরের টিফিনের জন্য একটি পুরোনো বাক্স ব্যবহার করুন, কিন্তু বাইরে রঙিন কাগজ বা স্টিকার দিয়ে সাজান। ৫ মিনিটের কাজ, কিন্তু বাচ্চা মনে করবে ‘এটা বিশেষ’।
গবেষণা যা বলে
শুধু আমার অভিজ্ঞতা নয়, গবেষণাও টিফিন বক্স ফেরত কমানোর কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউট্রিশনের ২০২২ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ভারতীয় স্কুলে টিফিন ফেরত আসার গড় হার ৩৭%। এরমধ্যে মেয়েদের ক্ষেত্রে এই হার ছেলেদের তুলনায় ১২% কম। অর্থাৎ মেয়েরা বেশি খাবার শেষ করে। গবেষকরা বলছেন, এর কারণ মেয়েদের মধ্যে খাবারের প্রতি বেশি সচেতনতা ও পছন্দ-অপছন্দ স্পষ্ট থাকা।
আরেকটি চমকপ্রদ তথ্য: যে সব বাচ্চা টিফিন বক্স খোলার আগে হাত ধোয়ার অভ্যাস রাখে, তাদের খাবার শেষ করার সম্ভাবনা ২৩% বেশি। কারণ হাত ধোয়ার সময় বাচ্চা মানসিকভাবে খাবারের জন্য প্রস্তুত হয়। তাই শুধু টিফিনের ভেতর নয়, বাইরের প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিজে আমার ছেলেকে টিফিন বক্স খোলার আগে একটি ছোট্ট গান গাওয়ার অভ্যাস করিয়েছি যেমন ‘আজকের টিফিনে কী আছে?’ এতে তার আগ্রহ দ্বিগুণ হয়।
গবেষকরা আরও বলছেন, ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী বাচ্চাদের মধ্যে টিফিন ফেরত আসার প্রধান কারণ হচ্ছে ‘একঘেয়ে খাবার’। অর্থাৎ প্রতিদিন একই রকম খাবার হলে বাচ্চা বিরক্ত হয়। আমি লক্ষ করেছি, সপ্তাহে কমপক্ষে দুবার নতুন কিছু দিলে যেমন মাঝে মাঝে পান্তাভাত বা চিড়ে টিফিন ফেরত আসার হার ৩৫% কমে যায়। যা অদ্ভুত, তা হলো বাচ্চা বাড়িতে পান্তাভাত খেতে চায় না, কিন্তু টিফিনে পেলে শেষ করে ফেলে। কারণ বন্ধুদের দেখে খাওয়ার আলাদা মজা আছে।
সবশেষে, গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ফল: পরিবার যত বেশি টিফিনের পরিকল্পনায় বাচ্চাকে জড়ায়, টিফিন ফেরত আসার প্রবণতা তত কম। উদাহরণস্বরূপ, শনিবারে টিফিনের মেনু বাচ্চার সঙ্গে বসে ঠিক করলে ফেরত আসার হার ৪১% কমে। তাই শুধু রান্না নয়, পরিকল্পনায়ও বাচ্চার মতামত নিন।
শেষ কথা
টিফিন বক্স অক্ষত ফেরা শুধু খাবারের সমস্যা নয় এটা যোগাযোগের সমস্যা। আমরা ভাবি, আমরা পুষ্টিকর খাবার দিয়েছি, যথেষ্ট। কিন্তু বাচ্চা চায় বৈচিত্র্য, গল্প, খেলা। আমি নিজে এই পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে ৫০% টিফিন ফেরত কমিয়েছি। আজই একটি পদ্ধতি বেছে নিন গল্প বলুন, টেক্সচার মিশান, বা প্যাকেট সাজান। বাচ্চা খাবে, আর আপনি শান্তিতে থাকবেন।
মনে রাখবেন, প্রতিটি বাচ্চা আলাদা। আপনার সন্তান যদি কোনো দিন টিফিন না খায়, তবে রাগ করবেন না। বরং খোলা মনে কথা বলুন কেন খাওয়া হয়নি? কী পছন্দ হবে? এই সংলাপই টিফিন বক্সের সমস্যার স্থায়ী সমাধান। আর হ্যাঁ, নিজেও মাঝে মাঝে টিফিন বক্সে কিছু রাখুন যেমন ফল বা মিষ্টি বাচ্চা দেখলে আনন্দ পাবে। শেষ পর্যন্ত, টিফিন বক্স শুধু পেট ভরানোর নয়, সম্পর্ক গড়ারও একটি মাধ্যম।









