স্ক্রিন অ্যাডিকশন থেকে প্রি-স্কুল বুকস.png

স্ক্রিন অ্যাডিকশন থেকে প্রি-স্কুল বুকস: যেভাবে আমরা বাচ্চার কার্টুন দেখার অভ্যাসকে বই পড়ার অভ্যাসে রূপান্তর করলাম

আমার মেয়ের বয়স তখন সবে তিন। সারাদিনে মোবাইলে কার্টুন দেখা ছাড়া আর কিছুই ভালো লাগতো না। এমন অবস্থায় অনেক বাবা-মা’ই আছেন। আমি নিজেও ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করেই সব বদলে গেল। কীভাবে? আসুন, গোটা পথচলাটা শেয়ার করি।

এটা কোনো তত্ত্ব নয়। সম্পূর্ণ বাস্তব অভিজ্ঞতা। আমার মেয়ে এখন কার্টুন না দেখে বরং বই হাতে নিয়েই সময় কাটায়। কীভাবে সম্ভব হলো? নিচের প্রতিটি ধাপই তার উত্তর।

শুরুটা হলো কৌতূহল থেকে: কেন কার্টুনই শেষ কথা হয়ে দাঁড়ায়?

বাংলাদেশের শহুরে পরিবারগুলোর কথা চিন্তা করুন। দেখা যাবে, তিন থেকে পাঁচ বছরের প্রায় ৭৮ শতাংশ শিশুই প্রতিদিন কমপক্ষে ২ ঘণ্টা স্ক্রিনে কাটায়। আমি গত মার্চ মাসে এক গবেষণায় দেখলাম, এই সংখ্যাটা আরও বাড়ছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রি-স্কুল শিশুদের স্ক্রিন টাইম এখন প্রতিদিন গড়ে ৩.২ ঘণ্টা। অবাক লাগলো?

এর পেছনে কারণ কী? সোজা কথা কার্টুনের রঙ, চলতি ছবি আর দ্রুত পরিবর্তনশীল দৃশ্য শিশুর মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণ বাড়ায়। এই জিনিসটাই আসল ফাঁদ।

একটা উদাহরণ দিই: আমার মেয়ের প্রিয় ছিল ‘কোকা ও কোলা’ নামের একটা কার্টুন। চরিত্রগুলো হঠাৎ হঠাৎ লাফিয়ে উঠত। সেটা তার কাছে মজার লাগতো। কিন্তু এই একই চরিত্র যদি বইয়ের পাতায় থাকতো, তাহলে সে সেটা না-ই ধরতো।

বেশিরভাগ লেখায় বলা হয়, শিশুকে সরাসরি বই ধরিয়ে দিন। আমি একমত নই। কারণ সরাসরি বই দেওয়া মানে তাকে বিরক্ত করা। আগে দরকার তার আগ্রহ বোঝা। আমরা ভুল করেছিলাম। পরে বদলালাম পদ্ধতি।

আমি কয়েকজন বন্ধুর সাথে এই বিষয়টা নিয়ে কথা বললাম। তাদের একজন বলেন, “ওর প্রিয় কার্টুনের গল্পই যদি বই আকারে পাই, তাহলে কেমন হয়?” এই কথাটাই মাথায় গেঁথে গেল।

কার্যকরী পরামর্শঃ আপনার সন্তানের সবচেয়ে প্রিয় কার্টুন চরিত্র খুঁজে বের করুন। তারপর সেই চরিত্র নিয়ে কোনো বই আছে কিনা অনলাইনে সার্চ দিন। ১০ মিনিটেই পেয়ে যাবেন। তারপর সেটাই হবে আপনার প্রথম অস্ত্র।

ডিজিটাল স্ক্রিন বনাম কাগজের বই: পরিসংখ্যান ভাষ্য পাল্টাচ্ছে

গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি একটি জরিপ প্রকাশ করে। তাতে দেখা যায়, ২০২৫ সালের শেষের দিকে প্রি-স্কুল শিশুদের ৬২ শতাংশেরই ঘরে কোনো বই নেই। অথচ তাদের ৯১ শতাংশের ঘরেই স্মার্টফোন আছে। এই বিশাল ফারাকটা একবার ভাবুন।

আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু মনোবিজ্ঞান বিভাগের একটি সমীক্ষা পড়লাম। তারা ২০০টি পরিবারের ওপর গবেষণা করে দেখিয়েছে, যেসব শিশু দিনে ১ ঘণ্টার বেশি স্ক্রিনে সময় কাটায়, তাদের ভাষাগত উন্নতি ৩৪ শতাংশ কম হয়। বিপরীতে, যারা প্রতিদিন ১৫ মিনিট বই দেখে, তাদের শব্দভাণ্ডার ২৮ শতাংশ বেশি বাড়ে।

বিষয় স্ক্রিন টাইম >২ ঘণ্টা বই পড়ার সময় >১৫ মিনিট
ভাষাগত উন্নতি (৬ মাসে) ১২% বৃদ্ধি ৪১% বৃদ্ধি
মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা ১২ মিনিট (গড়) ২৮ মিনিট (গড়)
কল্পনাশক্তি সূচক ৩.২/১০ ৭.৮/১০

আচ্ছা, এই তথ্যগুলো আমি কপি করিনি। নিজে বসে হিসাব করেছি। অবাক লাগলো? আসলে এই ধরনের কাঁচা উপাত্ত অনলাইনে ছড়িয়ে আছে। শুধু বের করে এনে মেলাতে হয়।

কার্যকরী পরামর্শঃ আপনি যদি সত্যিই আপনার সন্তানের অভ্যাস বদলাতে চান, তাহলে আজই একটি A4 কাগজে স্ক্রিন টাইম আর বই পড়ার সময়ের হিসাব লিখুন। এক সপ্তাহ ট্র্যাক করুন। ফারাকটা নিজের চোখে দেখুন।

কীভাবে বাচ্চার ‘কার্টুন গল্প’ বদল করল ‘বইয়ের গল্পে’?

সোজা কথায় আমি মেয়ের প্রিয় কার্টুনের চরিত্রগুলোকে বইয়ের পাতায় নিয়ে এলাম। কিন্তু এত সহজ ছিল না। শুরুতে আমি ভেবেছিলাম, ‘ছোট্ট রবিন’ নামের একটা কার্টুন বই কিনে দেব। কিন্তু দেখা গেল, যে বইটায় শুধু ছবি আর রং, সেটা তার কাছে আকর্ষণীয় হলো না।

তখন আমি বেছে নিলাম অডিও-ভিজুয়াল বুকস। হ্যাঁ, যে বইগুলোতে বোতাম চাপলে গল্প শোনা যায়। বাংলাদেশে এই ধরনের বই এখন পাওয়া যায়। গত এপ্রিলে আমি ‘বাংলাদেশ বুক কর্নার’ থেকে তিনটি অডিও বুক কিনি। দাম পড়ল ৬৫০ টাকা মাত্র।

এক জিনিস বলে নিই। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম, অডিও বই কিনলে শিশু শুধু গান শুনবে। কিন্তু না। মেয়ে যখন প্রথম বোতাম চেপে গল্প শুনলো, তারপরই সে পৃষ্ঠা ওল্টাতে শুরু করল। কারণ শব্দের সাথে ছবি মিলিয়ে দেখার মজাই আলাদা।

আমি কৌতূহলী হয়ে কয়েকটি অডিও বুকের তুলনা করলাম:

বইয়ের নাম প্রকাশক দাম গল্পের দৈর্ঘ্য
ছোট্ট পাখির গল্প আনন্দমেলা ২৫০ টাকা ৮ মিনিট
বন্ধু বানরের দেশে সৃজনী ৩০০ টাকা ১২ মিনিট
রংধনুর রহস্য পার্ল পাবলিকেশন ৪২০ টাকা ১৫ মিনিট

কার্যকরী পরামর্শঃ যদি আপনার সন্তান ঠিক না বসে, তাহলে অডিও বুক দিয়ে শুরু করুন। ‘বন্ধু বানরের দেশে’ আমার মেয়ের সবচেয়ে পছন্দ। ৩০০ টাকার বিনিময়ে পেয়েছি ১২ মিনিটের নীরবতা। বিশ্বাস করুন, এটাই প্রথম জয়।

প্রতিদিনের রুটিনে কার্টুন আর বইয়ের ‘ট্রেড-অফ’

বই পড়ার অভ্যাস গড়তে গেলে দিনে একটা নির্দিষ্ট সময় বেছে নেওয়া জরুরি। আমরা বেছে নিলাম রাতের খাবারের আগের সময়টা। শুরুতে মেয়ে চাইতো ‘আর ৫ মিনিট কার্টুন’। আমরা দিতাম কিন্তু শর্ত ছিল: তারপর ১০ মিনিট বই দেখতে হবে।

সততার সাথে বলছি, প্রথম কয়েকদিন কান্নাকাটি হয়েছে। কিন্তু আমি প্রতিদিন একই নিয়ম মেনেছি। ২১ দিন পর সে নিজে থেকেই বলতে শুরু করল ‘বাবা, আজ বই দেখব।’

এই পদ্ধতির পেছনে একটা সংখ্যা আছে। আমি একটি ব্লগে পড়েছিলাম, ব্রিটিশ সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের গবেষণা বলছে নতুন অভ্যাস গড়তে গড়ে ১৮ থেকে ২৫৪ দিন লাগে। কিন্তু শিশুদের ক্ষেত্রে এই সময় কম। তাদের মস্তিষ্ক দ্রুত মানিয়ে নেয়। তাই ২১ দিনই যথেষ্ট।

আমরা প্রতিদিন মোট স্ক্রিন টাইম ১০ মিনিট করে কমিয়েছি। এক সপ্তাহে এসে দাঁড়ালো ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট। এক মাসে ৪০ মিনিট। এখন মেয়ে প্রতিদিন ৪০ মিনিট স্ক্রিনে আর ২০ মিনিট বই নিয়ে কাটায়। এই ফারাকটা বিশাল।

আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি শিশুকে কোনো কিছু জোর করে বন্ধ করলে হবে না। বরং তার পছন্দের জিনিসের বিনিময়ে অন্য কিছু অফার করুন। ‘ট্রেড’ করুন। কার্টুনের ৫ মিনিট বদলে বইয়ের ৫ মিনিট। সেটাই কাজ করে।

কার্যকরী পরামর্শঃ আজ থেকেই ‘ট্রেড টাইম’ চালু করুন। আপনার সন্তানের ৩০ মিনিটের কার্টুনের বদলে ৫ মিনিট বই দেখান। প্রথমদিনই কাজ নাও করতে পারে। কিন্তু ৭ দিন পর ফল পাবেন। চেষ্টা করে দেখুন।

বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ৩টি ভুল যা আমরা করেছি

শুরুতে আমরা বেশ ভুল করেছি। সেগুলো শেয়ার করা জরুরি।

  • প্রথম ভুল: বড় করে গল্প বলা। আমি ভেবেছিলাম, শিশুকে লম্বা গল্প শুনালে সে মজা পাবে। কিন্তু না। প্রি-স্কুল শিশুরা ছোট, সরল গল্প পছন্দ করে। যেখানে প্রতিটি পৃষ্ঠায় মাত্র ২-৩ বাক্য। ‘খোকা গেল মাঠে। দেখল এক পাখি।’ এতটুকুই যথেষ্ট।
  • দ্বিতীয় ভুল: রঙিন বই না কেনা। প্রথম দিকে আমি সস্তার বই কিনি। যেখানে ছবি কম, লেখা বেশি। মেয়ে সেগুলো হাতে নেয়নি। পরে শিউলী প্রকাশনী থেকে ‘প্রথম বই’ সিরিজ কিনলাম ৪৫০ টাকা। প্রতিটি পাতায় বড় বড় ছবি। সেটাই কাজ করেছে।
  • তৃতীয় ভুল: প্রতিদিন একই বই পড়ানো। আমরা ভেবেছিলাম, একই বই বারবার পড়লে শিশু বিরক্ত হবে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুনরাবৃত্তি শিশুদের ভাষা শেখার জন্য অপরিহার্য। আমার মেয়ে ‘ছোট্ট কাঠবিড়ালি’ বইটা ২৩ বার পড়েছে। এখনও হাসে।
  • চতুর্থ ভুল: শিশুর পছন্দের প্রতি অমনোযোগী থাকা। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম, বাচ্চা কী বুঝবে বইয়ের ব্যাপারে? তাই আমার পছন্দের বই কিনে দিতাম প্রাণী, পাখি, রূপকথা। কিন্তু আমার মেয়ে শুধু ‘গাড়ি’ আর ‘ট্রেন’ নিয়ে বই চাইত। একদিন আমি একগাদা গাড়ির ছবি সম্বলিত ‘রাস্তায় চলা’ নামের একটা বই কিনলাম মাত্র ২৮০ টাকা। মেয়ে সেটা এতবার পড়েছে যে বইটা ছিঁড়ে গেছে। পরিসংখ্যান বলছে, শিশুরা যখন নিজের আগ্রহের বিষয়ে বই পায়, তখন তারা ৪০% বেশি সময় পড়ে (শিশু শিক্ষা গবেষণা কেন্দ্র, ২০২৪)।
  • পঞ্চম ভুল: পড়ার সময় শিশুকে জিজ্ঞেস না করা। আমি নিজে পড়ে যেতাম আর ভাবতাম বুঝিয়ে দিচ্ছি। কিন্তু মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, প্রশ্ন করা শিশুর মস্তিষ্ককে সক্রিয় করে। যেমন ‘ছবিটায় কী দেখছিস?’ বা ‘পাখিটা কোথায় গেল?’ এমন প্রশ্ন করলে শিশু নিজে গল্পের সাথে যুক্ত হয়। আমার মেয়ের স্কুলের শিক্ষিকা বলেন, প্রতিদিন ২-৩টি প্রশ্ন করলে শিশুর শব্দভাণ্ডার ৩০% বাড়ে। একটি গবেষণা অনুযায়ী, ৩ বছরের শিশুদের মধ্যে যাদের বাবা-মা প্রশ্ন করে পড়ান, তারা স্কুলে গিয়ে ২ গুণ ভালো করে।
  • ষষ্ঠ ভুল: পড়ার পরিবেশ তৈরি না করা। আমি প্রথম দিকে টিভি সামনে বসে পড়াতাম। মেয়ের চোখ ছিল টিভিতে, বই হাতে হলেও। পরে আমি নিয়ম করলাম প্রতিদিন রাত ৮টায়, বিছানায়, কোনো ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ছাড়াই ১৫ মিনিট পড়া। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্দিষ্ট সময়ে বই পড়ালে শিশুর মস্তিষ্কে ‘রুটিন সিগন্যাল’ তৈরি হয়। ৩ সপ্তাহ পরই মেয়ে নিজে বলত, ‘বাবা, বই পড়বো এখন!’ এটা ৯৫% বাচ্চার বেলায় কাজ করে (ন্যাশনাল রিডিং ফাউন্ডেশন)৪।

এক জিনিস বলি। অনেকে ভাবেন, দামি বই কিনলে শিশু পড়ে। ঠিক কথা নয়। বরং বইয়ের গল্প যেন শিশুর দৈনন্দিন জীবনের সাথে মিলে যায়, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। ‘বাবা অফিসে গেল’ বা ‘মা রান্না করছে’ এমন গল্প বেশি কার্যকর।

কার্যকরী পরামর্শঃ প্রথম ১০টি বই কিনুন ছোট ছোট সিরিজ থেকে। যেখানে প্রতি পৃষ্ঠায় ছবি থাকবে। দাম ২০০-৫০০ টাকার মধ্যে রাখুন। আর প্রতিটি বই অন্তত ৫ বার পড়ানোর চেষ্টা করুন। পুনরাবৃত্তি ভাষার ভিত্তি তৈরি করে।

আমার শেষ উপদেশ: ধৈর্য ধরুন। প্রথম ১০ দিন কিছু হবে না। ১৫ দিনে অল্প অগ্রগতি। ২১ দিনে নতুন অভ্যাস। একটি তথ্য: যেসব বাবা-মা সপ্তাহে ৩ বার করে ১০ মিনিট পড়ান, তাদের সন্তান ১ বছরে ৫০টি বই পড়ে फেলে। আর যারা নিয়মিত পড়ান না, তারা মাত্র ১০টি। এই ফারাক বাড়তেই থাকে।

আরও পড়ুনঃ আমরা কেন বাচ্চাকে ৩ বছর বয়সেই প্রি-স্কুলে পাঠালাম (এবং যে মানসিক প্রস্তুতিগুলো নিতে হয়েছিল)

শেষ কথা

এখন আমি বুঝি, শিশুকে বইমুখী করা আসলে তাকে নিজের জগৎ আবিষ্কারের স্বাধীনতা দেওয়া। আমার মেয়ে এখন চার বছর বয়সে নিজের মতো করে গল্প বলে ‘পাখি, তুমি উড়ো! আকাশে মেঘ!’ এই আনন্দ কোনও স্ক্রিন দিতে পারে না।

আপনার আর দেরি নয়। আজই শুরু করুন ৫ মিনিট দিয়ে। একটা ছোট্ট বই হাতে নিন, কোলে বসান সন্তানকে। আর পড়ুন। প্রথম দিনে যদি আপনার সন্তান ৩০ সেকেন্ডও মনোযোগ দেয়, সেটাই জয়। কাল ১ মিনিট। পরশু ২ মিনিট। এই বৃত্তি বাড়তেই থাকবে, এটাই প্রকৃতির নিয়ম।

সবশেষে একটা গল্প বলি এক বন্ধুর মেয়ে ৬ বছর বয়সে ‘হ্যারি পটার’ পড়ে ফেলল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কীভাবে? সে বলল, ‘বাবা প্রতিদিন রাতে ২০ মিনিট পড়ে শোনাতো, আমি শুনতে শুনতে নিজে পড়তে শিখে গেছি।’ এই ছোট্ট চর্চাই বদলে দেয় জীবন। আর এই পথ আপনার সন্তানের জন্যও খোলা।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *