স্কুল থেকে এসে বাসায় পড়তে চায় না.png

৫ বছরের শিশুর বাসায় পড়তে না চাওয়ার কারণ ও সমাধান

অনেক বাবা-মা এই সমস্যার সম্মুখীন হন। গবেষণা অনুযায়ী, শিশুরা স্কুলের পর মানসিক ক্লান্তির কারণে বাসায় পড়তে চায় না। নিচে কিছু কার্যকর সমাধান দেওয়া হলো। অথচ সেদিন স্কুলের ডায়েরিতে শিক্ষকের মন্তব্য ছিল, “ক্লাসে খুব মনোযোগী।” দুটো একসাথে মেলানো যাচ্ছিল না।

কীভাবে একটা ৫ বছরের শিশু স্কুলে ঠিকঠাক পড়বে, আর বাড়িতে এসেই বইয়ের দিকে তাকাতেও রাজি হবে না? প্রশ্নটা আমাকে অনেকদিন ভাবিয়েছে। তারপর যা জানলাম, বুঝলাম আর করলাম, সেটাই এখানে লিখছি।

সমস্যাটা আসলে “অনীহা” নয়, এর পেছনে রয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি কারণ

প্রথমে ভেবেছিলাম, ছেলেটা হয়তো অলস হয়ে যাচ্ছে। বেশিরভাগ লেখায় বলা হয়, বাচ্চা পড়তে না চাইলে সে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছে। আমি একমত নই, কারণ রিফাতের ক্লাসের পারফরম্যান্স তখনও ভালো ছিল। তাহলে আসল সমস্যাটা কোথায়?

খোঁজ নিয়ে জানলাম, এটা আসলে মানসিক ক্লান্তির বিষয়। গবেষণায় দেখা গেছে, স্কুল থেকে ফেরার পর অনেক শিশুই মানসিক ক্লান্তির শিকার হয়, যাকে মনোবিজ্ঞানীরা ‘আফটার-স্কুল রিস্ট্রেইন্ট কলাপ্স’ বলেন। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে Psychology Today-এর গাবেষণামূলক প্রতিবেদনটি পড়তে পারেন। এছাড়া পড়ার সময় শিশুদের মন কেন এদিক-ওদিক ছুটে যায় এবং কীভাবে ছোট ছোট বিরতি দিয়ে তাদের মনোযোগ ধরে রাখা সম্ভব, তা নিয়ে Understood.org এর গাইডলাইনটি বেশ কার্যকর।শুরা পড়ার সময়ও ভাবে কী দেখেছিল, কোন খেলা খেলবে, কখন বিশ্রাম পাবে। ফলে মনোযোগ কমে যায় এবং পড়াশোনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। স্কুলে পুরো দিন পড়ার পর যখন বাড়িতেও একই পরিবেশ পায়, তখন মস্তিষ্কটা আর নিতে পারে না। এটাই কথা।

শিশুরা স্কুলের পর মানসিক বিশ্রামের প্রয়োজন। তবে শুধু বিশ্রামই যথেষ্ট নয়; একটি ইতিবাচক পড়ার পরিবেশ তৈরি করাও জরুরি। শিশুদের ওপর কঠোর নিয়ম চাপিয়ে দিলে ভয়ভীতি ও চাপ পড়াশোনার প্রতি অনীহা তৈরি করে এবং জোর করে পড়তে বসালে তারা আরও বিমুখ হয়ে পড়ে।

এই সত্যটা বুঝতে আমার মাসখানেক লেগেছিল। তাই আপনাকে বলছি, আজই ছেলে বা মেয়েকে জিজ্ঞেস করুন, “স্কুলের পরে তোমার কেমন লাগে?” শুধু এই একটা প্রশ্ন অনেক উত্তর দিয়ে দেবে, পাঁচ মিনিটের বেশি লাগবে না।

স্কুল ও বাড়ির পরিবেশের পার্থক্যই যে কারণে ৫ বছরের শিশুকে বিভ্রান্ত করে

স্কুলে কেন পড়ে? এই প্রশ্নটা নিজেকে করেছিলাম। উত্তর খুঁজতে গিয়ে একটা চমকপ্রদ বিষয় আবিষ্কার করলাম। স্কুলে শিক্ষকের কণ্ঠস্বর, সহপাঠীদের উপস্থিতি, নির্দিষ্ট সময়সূচি সব মিলিয়ে একটা “শেখার পরিবেশ” তৈরি হয়। বাড়িতে এসে সেই পরিবেশ আর নেই।

স্কুলের সময় যদি মর্নিং টাইমে হয়, তাহলে শিশুকে সকালে পড়তে বসানো উচিত নয়। স্কুল থেকে এসে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে দিতে হবে। তারপর অল্প কিছু পড়তে দিতে হবে, যতটুকু সে করতে চায়। তারপর তাকে একটু খেলতে দিতে হবে। এই সহজ ছকটা মেনে চলার পর থেকেই আমাদের ঘরে পরিবর্তন এসেছিল।

বাচ্চার প্রতিদিনের রুটিনে খেলার সময়টা রাখতে হবে। পড়ার সময়টা যেভাবে মনে করিয়ে দেওয়া হয়, ঠিক সেইভাবে খেলার সময়টাও মনে করিয়ে দিতে হবে। তাহলে শিশু একটা রুটিনের মধ্যে আসবে। ব্যক্তিগতভাবে আমি “খেলার সময় আগে, পড়ার সময় পরে” নিয়মটাকে “পড়ার সময় আগে”-র চেয়ে এগিয়ে রাখব, মূলত কারণ রিফাতের ক্ষেত্রে এটাই কাজ করেছে।

শিশু কীভাবে শিখতে পছন্দ করছে সেদিকে আগে খেয়াল করতে হবে। কোনো শিশু বই পড়তে পছন্দ করে, অন্যরা ভিডিও বা গল্প-ভিত্তিক পদ্ধতি পছন্দ করে। সেভাবে শেখালে শিশু বিরক্ত না হয়ে শিখতে চেষ্টা করবে।

যদি আপনার সন্তানও স্কুল থেকে ফিরে সরাসরি বইয়ের সামনে বসতে অস্বীকার করে, তাহলে আজই বাড়িতে “স্কুলের মতো একটা ছোট পড়ার কোণ” তৈরি করুন। ছোট টেবিল, পেন্সিল স্ট্যান্ড, আলো। এটুকু পরিবর্তনেই মনোযোগ বাড়ে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ।

বাড়িতে পড়ানোর সময় যে তিনটি ভুল আমি নিজে করেছিলাম

থাক, মূল কথায় আসি। আমার তিনটি বড় ভুল ছিল এবং সেগুলো স্বীকার করে নেওয়াটা জরুরি মনে হচ্ছে।

  • প্রথম ভুল: রিফাত স্কুল থেকে ফেরার পরপরই বলতাম, “যাও, বই বের করো।” সন্তানকে জোর করে পড়াতে বসানো সমাধান নয়। রোজকার রাগ বা ধমক বাচ্চার মধ্যে চাপ সৃষ্টি করে, সেই সাথে কমিয়ে দেয় পড়াশোনায় আগ্রহ।
  • দ্বিতীয় ভুল: হাতে ফোন দিয়ে রাখতাম। শিশুদের স্মার্টফোন ব্যবহারে অবশ্যই নিয়ম-কানুন থাকতে হবে এবং মোবাইল ব্যবহারের ও পড়ার সময়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট রুটিন থাকা অত্যন্ত জরুরি।

তৃতীয় ভুল ছিল সবচেয়ে বড়। শিশুরা ফ্যান্টাসি পছন্দ করে, গল্পের জাদুতে হারিয়ে যেতে চায়। মা-বাবা যখন জোর করে গৎবাঁধা বই পড়ান, তখন শিশুদের মনে বিরূপ প্রভাব পড়ে এবং তারা পড়ালেখায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। আমিও ঠিক সেই কাজটাই করছিলাম।

আসলে, একটু অন্যভাবে বলা দরকার। ভুলগুলো করা মানে আমি খারাপ বাবা ছিলাম না, শুধু সঠিক পথটা জানতাম না। পড়ায় মনোযোগ না থাকার পেছনে অনেকগুলো কারণ আছে, সেগুলো বের করতে হবে এবং এজন্য বাবা-মায়ের সচেতনতা খুব জরুরি।

একটা সহজ নিয়ম যা আমি এখন মেনে চলি: স্কুল থেকে আসার পর কমপক্ষে ৪৫ মিনিট সন্তানকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখুন। তারপর পড়তে বসান। আপনিও পরের বিকেলে চেষ্টা করে দেখুন।

গল্পের ছলে পড়ানো: যে পদ্ধতিতে রিফাতের বাড়ির পড়া বদলে গেল

এই অংশটা নিয়ে যে কথাটা কেউ সরাসরি বলে না, সেটা হলো ৫ বছরের শিশুর কাছে “পড়া” আর “খেলা” এক হয়ে গেলে সমস্যা অনেকটাই মিটে যায়। সত্যিই।

শিশুদের সঙ্গে জোরাজুরি না করে খেলার ছলে, গল্পের মতো করে পড়ালে আগ্রহ বাড়ে। অল্প অল্প করে পড়ানো ও প্রশংসা করলে শিশুরা উৎসাহী হয়। এই তথ্যটা বিশেষজ্ঞ মনোরোগ চিকিৎসক ডা. মেখলা আক্তারের বরাত দিয়ে এসেছে এবং বাস্তবেও আমি তা কার্যকর দেখেছি।

রিফাতকে আমরা যেভাবে পড়াতে শুরু করলাম: প্রতিটি অক্ষর বা শব্দের সাথে একটা গল্প জুড়ে দিলাম। “অ” মানে অজগর, অজগর কী করে তার গল্প বলো। ওর কল্পনায় ছেড়ে দিলাম। অবাক লাগলো, কারণ মাত্র এক সপ্তাহে পুরো বাংলা বর্ণমালা সে নিজে থেকে বলতে শুরু করল।

বাচ্চা সহপাঠীর সঙ্গে একসাথে পড়াশোনা করলে আগ্রহ বাড়ে। যখন সে দেখবে তার অন্য সহপাঠী তার থেকে বেশি পড়া পারছে, তখন তার মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব জাগবে এবং সে নিজে থেকেই পড়া শিখতে চাইবে।

সপ্তাহে একদিন রিফাতের বন্ধুকে বাড়িতে ডেকে একসাথে পড়ার ব্যবস্থা করলাম। পার্থক্যটা ছিল প্রায় দ্বিগুণ, বাচ্চা দুজন মিলে পড়লে একা পড়ার তুলনায় মনোযোগ অনেক বেশি থাকে। এই ছোট পরিবর্তনই বড় ফলাফল দিয়েছে।

পরের বার পড়াতে বসানোর আগে একটি কাজ করুন: পড়ার বিষয়টা ছেলে বা মেয়ের পছন্দের গল্পের সাথে মিলিয়ে নিন। যদি সে ডাইনোসর ভালোবাসে, তাহলে আজকের পড়াটা ডাইনোসরের গল্প দিয়ে শুরু করুন। মাত্র ৫ মিনিটের প্রস্তুতি, কিন্তু ফলাফল অবিশ্বাস্য।

শিশুর শারীরিক ও মানসিক কারণগুলো যেভাবে পরীক্ষা করে দেখলাম

অনেক অভিভাবক এই দিকটায় মনোযোগ দেন না। আমিও প্রথমদিকে দিইনি। যদিও পরে বুঝলাম, কিছু ক্ষেত্রে বাড়িতে পড়তে না চাওয়ার পেছনে শারীরিক কারণও থাকতে পারে।

শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঠিক আছে কিনা তা খেয়াল করে দেখা বাবা-মায়ের কর্তব্য। শিশুর যদি রক্তস্বল্পতা থাকে বা আয়রনের ঘাটতি থাকে, তাহলে পড়ায় মনোযোগ কমে যেতে পারে।

শিশুর ঘুমের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। ঘুমের সময় নাক ডাকছে কিনা, ঘুম বারবার ভেঙে যাচ্ছে কিনা, ঘুমানোর সময় মুখ খোলা থাকে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এগুলো আপাতদৃষ্টিতে ছোট বিষয় মনে হলেও, শিশুর বিকেলের মনোযোগের সাথে এর সরাসরি যোগ রয়েছে।

রিফাতকে একবার ডাক্তার দেখাতে গিয়ে জানলাম তার হালকা আয়রন কম ছিল। চিকিৎসার পর দুই মাসের মধ্যে বাড়িতে পড়ার আগ্রহে পরিবর্তন আসে। সত্যি বলছি, এটা আশা করিনি।

সোজা কথায়, বাচ্চা বাড়িতে পড়তে না চাইলে শুধু “মানসিক” ভেবে বসে থাকবেন না। গবেষণা বলছে, বাংলাদেশে ৩৬ দশমিক ৫ শতাংশ শিশু লেখাপড়ায় অমনোযোগী এবং ৩৬ দশমিক ৯ শতাংশের মধ্যে স্কুলে না যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। সংখ্যাটা কম নয়, তাই প্রতিটি শিশুর বিষয়টা আলাদাভাবে দেখা দরকার।

যদি আপনার সন্তান ক্লান্ত থাকে বা মনোযোগ দিতে পারছে না, তাহলে এই সপ্তাহেই একজন শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান এবং রক্তের সাধারণ পরীক্ষাটা করিয়ে নিন। পুরো কাজটা এক বিকেলেই শেষ হবে।

রুটিন বনাম স্বাধীনতা: ৫ বছরে কতটুকু কাঠামো দেওয়া উচিত

এই প্রশ্নটা নিয়ে সততার সাথে বলছি, আমি নিজেও নিশ্চিত ছিলাম না। একদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন নির্দিষ্ট রুটিন দরকার, অন্যদিকে মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন শিশুর স্বাধীনতা না দিলে সৃজনশীলতা নষ্ট হয়। তথ্য দুই দিকেই যাচ্ছে।

তবে রিফাতের ক্ষেত্রে আমরা মাঝামাঝি পথ বেছেছিলাম। নিচে সেই রুটিনটা দেওয়া হলো, যেটা কাজ করেছে।

সময় কার্যক্রম সময়কাল
বিকেল ৩টা ৩০ স্কুল থেকে ফেরা, হাত-মুখ ধোয়া, খাওয়া ৩০ মিনিট
বিকেল ৪টা মুক্ত খেলার সময় (বাইরে বা ঘরে) ৪৫ মিনিট
বিকেল ৪টা ৪৫ গল্পের ছলে পড়া বা বাড়ির কাজ ২০ মিনিট
সন্ধ্যা ৬টা হালকা শিক্ষামূলক খেলা বা ছড়া ১৫ মিনিট
রাত ৮টা ৩০ ঘুমের আগে গল্প শোনা ১৫ মিনিট

লক্ষ্য করুন, পুরো রুটিনে পড়ার সময় মাত্র ২০ মিনিট। অনেকেই মনে করেন ৫ বছরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ানো দরকার। আমি বনাম ওই ধারণা তুলনা করলাম এবং পার্থক্যটা স্পষ্ট বেশি সময় পড়ানো মানেই বেশি শেখা নয়, বরং প্রতিদিন ২০ মিনিটের মনোযোগী পড়া, দীর্ঘ মেয়াদে অনেক বেশি ফলদায়ক।

মনে রাখবেন, আপনি শিশুকে যতই পড়তে বলুন না কেন, সে সেটাই করবে যেটা আপনি করেন। তাই রিফাতের সামনে আমি নিজেও বই নিয়ে বসা শুরু করলাম। সেটাই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এনেছিল।

আমি যে সহজ নিয়মটা মেনে চলি: “পড়ার সময় পরিবারের সবাই কোনো না কোনো পড়ায় থাকবে।” আপনিও পরের সন্ধ্যায় এটা চেষ্টা করে দেখুন, পার্থক্যটা আপনি নিজেই অনুভব করবেন।

শেষ কথা

৫ বছরের শিশু বাড়িতে পড়তে না চাওয়া মানে সে পড়াশোনার শত্রু নয়, বরং সে তখন বিশ্রাম, খেলা আর ভালোবাসা চাইছে। মনোযোগে ঘাটতি, মেজাজ খিটখিটে হওয়া বা ঘুমের সমস্যা দেখা দিলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

রিফাত আজ নিজে থেকেই বই নিয়ে বসে, কারণ আমরা জোর দেওয়া ছেড়ে বোঝার চেষ্টা করেছিলাম। আপনার সন্তানের সাথেও আজ থেকে কথা বলে শুরু করুন, সমাধানটা ভেতর থেকেই আসবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর বয়সের উপর নির্ভর করে তার মনোযোগের মাত্রা ৪-৫ বছরের শিশুর মনোযোগ আর ৮-১০ বছরের শিশুর মনোযোগ এক হবে না। তাই সন্তানের কাছ থেকে বড়দের মতো একটানা পড়ার প্রত্যাশা রাখা মোটেই ঠিক নয়।

শিশু বিকাশ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, একটি শিশু সাধারণত তার বয়সের প্রতি বছরের জন্য গড়ে দুই থেকে তিন মিনিট মনোযোগ ধরে রাখতে পারে অর্থাৎ ৫ বছর বয়সী শিশু কোনো একটি কাজে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট মনোযোগ দিতে সক্ষম। কার্যক্রমের ধরন, শিশুর আগ্রহ, দিনের সময় এবং মেজাজের উপর নির্ভর করে এই মনোযোগের মাত্রা কমবেশি হতে পারে। তাই ২০ মিনিটের পড়ার রুটিনও আসলে একটু বেশিই সেটাকে দুটি ১০ মিনিটের ভাগে ভাগ করে নেওয়া আরও বুদ্ধিমানের কাজ।

ছোট শিশুরা সাধারণত তখনই সবচেয়ে ভালো করে যখন একটানা বসে থাকার কাজ আর শারীরিক নড়াচড়ার কাজ পালাক্রমে চলে। তাই পড়ার মাঝে ছোট বিরতি দিয়ে একটু হাঁটা বা হালকা খেলার সুযোগ দিলে শিশু আবার সতেজ মনোযোগ নিয়ে ফিরে আসে। প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা ছোটাছুটি করে খেলার সময় রাখলে শরীরে এনডরফিন বেশি পরিমাণে নিঃসৃত হয়, এবং এরপর পড়াতে বসালে প্রথম ঘণ্টার পড়ায় পুরো মনোযোগ পাওয়া যায়।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো ধৈর্য ও ভালোবাসা জোর করে পড়াতে গেলে বিরক্তি জন্মায়, কিন্তু সহানুভূতি ও বোঝাপড়া নিয়ে এগোলে শিশুরা নিজেরাই পড়ার আনন্দ খুঁজে পায়। আপনার সন্তানকে প্রতিদিন মাত্র কয়েক মিনিটের মনোযোগী সময় দিন, ছোট ছোট সাফল্যে প্রশংসা করুন দেখবেন পড়াশোনা আর বোঝা হবে না, বরং হয়ে উঠবে তার প্রিয় অভ্যাস।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *