স্কুল ইন্টারভিউয়ের ভয় দূর করতে আমরা যেভাবে ড্রয়িং রুমে ‘খেলার ছলে’ মক-টেস্ট নিয়েছিলাম

Published On: June 2, 2026
Follow Us
স্কুল ইন্টারভিউয়ের ভয়.png

আমার মেয়ে রিয়ার বয়স তখন সাড়ে পাঁচ। ঢাকার একটি নামকরা ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ভর্তি পরীক্ষার দিন সকালে সে বাথরুমে ঢুকে কাঁদছিল। কারণ জিজ্ঞেস করলাম বলল, “ওরা যদি আমার নাম জিজ্ঞেস করে, আমি ভুলে যাব।” অবাক লাগলো। বাড়িতে যে মেয়ে একটানা কথা বলে, সেই একই মানুষ অপরিচিত একজনের সামনে নিজের নামটাও ভুলে যাওয়ার ভয়ে কাঁদছে?

এই ঘটনার পর আমি তথ্য খুঁজতে বসলাম। অনেক শিশু নতুন স্কুলে যাওয়ার সময় বা পরীক্ষার আগে উদ্বিগ্ন বোধ করে এবং কিছু শিশু সামাজিক পরিস্থিতিতে লাজুক বোধ করে। এটা নতুন তথ্য নয়। কিন্তু যেটা বেশিরভাগ বাবা-মা জানেন না সেটা হলো ইন্টারভিউর ভয় আর পরীক্ষার ভয় এক জিনিস নয়। পরীক্ষায় কাগজ থাকে, কলম থাকে। ইন্টারভিউতে থাকে একজন অপরিচিত মুখ, সরাসরি প্রশ্ন, এবং নীরবতার অস্বস্তি।

শুধু “ইন্টারভিউ” শব্দটাই অনেক ভয় ও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। এটা ঠিক। তবে বেশিরভাগ লেখায় বলা হয় শুধু “প্র্যাকটিস করো।” আমি একমত নই, কারণ শুকনো প্র্যাকটিস শিশুর জন্য আরেকটা চাপের উৎস হয়ে ওঠে। পার্থক্যটা হলো প্র্যাকটিস কীভাবে করছ। বাড়িতে বসে আমরা বেছে নিয়েছিলাম সম্পূর্ণ আলাদা একটা পথ খেলার ভেতরে লুকিয়ে রাখা অনুশীলন।

মক ইন্টারভিউর মাধ্যমে প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি, কারণ সবচেয়ে প্রাণচঞ্চল শিশুরাও অপরিচিত কারো প্রশ্নের সামনে চুপ হয়ে যেতে পারে। আমি যখন এই তথ্যটা পেলাম, তখন মনে হলো ঠিক এই জায়গাতেই কাজ করতে হবে।

পরামর্শঃ যদি আপনার সন্তানের স্কুল ইন্টারভিউর তারিখ আগামী ৩ সপ্তাহের মধ্যে থাকে, তাহলে আজই ড্রয়িং রুমে পাঁচ মিনিটের একটি ছোট গল্পের সেশন রাখুন ইন্টারভিউ বলবেন না, শুধু বলুন “চলো গল্প করি।”

ড্রয়িং রুমকে ‘খেলার মাঠ’ বানানোর পদ্ধতি: আমরা যেটা করেছিলাম

প্রথম দিন আমি সোফায় বসে বললাম, “চলো একটা নাটক করি তুমি নতুন স্কুলে গেছ, আমি দারোয়ান দাদু।” রিয়া হাসল। কারণ মজা মনে হলো। ব্যস, এইটুকুই যথেষ্ট ছিল শুরু করার জন্য।

এই পদ্ধতির পেছনে শক্ত যুক্তি আছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো অভিজ্ঞতাটাকে কম চাপের রাখা এবং এটাকে একজন নতুন শিক্ষকের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ হিসেবে ফ্রেম করলে পুরো বিষয়টা হালকা ও ইতিবাচক থাকে। থাক, মূল কথায় আসি এই ফ্রেমিংটাই সব পার্থক্য তৈরি করে।

আমরা একটা ছোট টেবিল সাজালাম। একদিকে একটা ছোট চেয়ার রিয়ার জন্য। অন্যদিকে আমি বা ওর বাবা। মাঝে মাঝে ওর দাদুকে “হেডমাস্টার” বানানো হতো। প্রথম সপ্তাহে শুধু নাম, বয়স, প্রিয় রং এই তিনটে প্রশ্নের বাইরে কিছু ছিল না। ইন্টারভিউতে বাচ্চারা যেন পরিষ্কার করে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের পুরো নাম বলে এবং চোখে চোখ রেখে হালকা হাসি মুখে উত্তর দেয় এতে ভালো প্রভাব পড়ে।

দ্বিতীয় সপ্তাহে আমরা একটু জটিল করলাম। “তুমি কী করতে ভালোবাসো?” এই প্রশ্নটা রিয়াকে তিনবার আলাদা আলাদাভাবে উত্তর দিতে বললাম। প্রতিবার উত্তর ভিন্ন এলো। আমি তুলনা করলাম প্রথমবার ৪ সেকেন্ড নীরব থাকল, দ্বিতীয়বার ১ সেকেন্ড, তৃতীয়বার কোনো নীরবতাই নেই। পার্থক্যটা ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু ওই তিন দিনের ব্যবধানে আত্মবিশ্বাসের পরিবর্তনটা ছিল চোখে দেখার মতো।

পরামর্শঃ প্রথম মক সেশন রাখুন মাত্র ৩টি প্রশ্নের জন্য নাম, বয়স এবং প্রিয় খাবার। এরচেয়ে বেশি নয়। মোট সময় ৭ মিনিটের বেশি লাগবে না, কিন্তু শিশুর ভেতরে একটা “আমি পারলাম” অনুভূতি তৈরি হবে।

কোন প্রশ্নগুলো বাড়িতে অনুশীলন করানো সবচেয়ে জরুরি

আমি একটা কাজ করলাম বিভিন্ন স্কুলের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে এবং অনলাইনে খুঁজে মোট ১৪টি প্রশ্নের একটি তালিকা তৈরি করলাম যেগুলো ঘুরেফিরে আসে। তারপর দেখলাম, এর মধ্যে মাত্র ৬টি প্রশ্নই ৯০ শতাংশ ইন্টারভিউতে আসে।

প্রশ্ন শিশু কী শেখে অনুশীলনের পদ্ধতি
তোমার নাম কী? পরিচয়ের আত্মবিশ্বাস আয়নার সামনে বলানো
তুমি কী করতে ভালোবাসো? নিজেকে প্রকাশ করা গল্পের ছলে বলানো
তোমার প্রিয় বই বা গল্প কোনটি? পড়ার অভ্যাস দেখানো আগে বই পড়ে তারপর বলানো
তুমি কেন এই স্কুলে আসতে চাও? উৎসাহ দেখানো স্কুলের ছবি দেখিয়ে অনুশীলন
তুমি স্কুলে কী শিখতে চাও? লক্ষ্য বোঝানো খেলার ছলে স্বপ্ন বলানো
তোমার বন্ধু বানাতে কেমন লাগে? সামাজিকতা যাচাই পুতুল দিয়ে খেলতে খেলতে

স্কুলে ভর্তির ইন্টারভিউতে বাচ্চাদের একটি ছড়া বলতে বলা হয়, তাই বাচ্চাকে ২-৩টি ছোট ছড়া ভালো করে মুখস্থ করিয়ে দেওয়া উচিত যাতে সে কোনো দ্বিধা ছাড়াই বলতে পারে।

সততার সাথে বলছি, “তুমি কেন এই স্কুলে আসতে চাও” এই প্রশ্নটা নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত ছিলাম না ছোট শিশুকে কীভাবে বোঝাবো। তথ্য দুই দিকেই গেছে। কেউ বলে ছোটদের এই প্রশ্ন করা হয় না, কেউ বলে হয়। তাই আমি মাঝামাঝি পথ নিলাম ছবি দেখিয়ে স্কুলের মাঠ, ক্লাসরুম সম্পর্কে কথা বলালাম, আর বললাম “ওখানে গেলে তুমি কী করবে?”

পরামর্শঃ উপরের টেবিলটা প্রিন্ট করে ফ্রিজে লাগিয়ে রাখুন। প্রতিদিন রাতের খাবারের পর মাত্র একটি প্রশ্ন অনুশীলন করান এই সহজ নিয়মটা মেনে চললে ৬ দিনে পুরো তালিকা শেষ হবে এবং চাপ থাকবে না।

শিশুর উপর চাপ না দিয়ে আত্মবিশ্বাস তৈরির মনোবৈজ্ঞানিক কৌশল

বেশিরভাগ অভিভাবক যেটা করেন বারবার একই প্রশ্ন ড্রিল করান, ভুল হলে সংশোধন করেন, এবং অজান্তেই চাপ তৈরি করেন। আমি এই পথে হাঁটিনি। সন্তানের ভালো ফলাফলের চিন্তা থেকে অনেক সময় অভিভাবকেরা এমন কিছু কথা বলে ফেলেন যেগুলো উপকারের বদলে উল্টো চাপ তৈরি করে এবং শিশুর আত্মবিশ্বাস কমাতে পারে। এটা পড়ে আমি নিজের ব্যবহার নিয়ে ভাবলাম।

আসলে, একটু অন্যভাবে বলা দরকার। শিশুকে “সঠিক উত্তর” শেখানো আর তাকে “নিজের কথা বলতে শেখানো” এই দুটো সম্পূর্ণ আলাদা লক্ষ্য। শিশুকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উত্তর দিতে উৎসাহিত করুন, মুখস্থ উত্তরের ওপর জোর না দিয়ে সততার দিকে মনোযোগ দিন অনুশীলন তাদের চিন্তা স্পষ্টভাবে ও আত্মবিশ্বাসের সাথে বলতে সাহায্য করবে।

আমার নিজস্ব পদ্ধতি ছিল তিনটি স্তরে প্রথমে “শুনি,” তারপর “বলি,” তারপর “খেলি।” রিয়াকে আমি একটি ছোট পুতুলের ইন্টারভিউ নিতে দিলাম। সে নিজেই প্রশ্ন করল পুতুলকে। এই পালাবদলে কী হলো জানেন? সে নিজেই বুঝতে পারল কোন প্রশ্নে ভালো উত্তর দরকার।

আরও পড়ুনঃ স্ক্রিন অ্যাডিকশন থেকে প্রি-স্কুল বুকস: যেভাবে আমরা বাচ্চার কার্টুন দেখার অভ্যাসকে বই পড়ার অভ্যাসে রূপান্তর করলাম

অত্যধিক প্রস্তুতি, বা নির্দিষ্ট প্রশ্নের অত্যধিক মহড়া দেওয়া উল্টোফলও দিতে পারে। ঠিক এটাই। হ্যাঁ, একদম স্পষ্ট কাগজে। বাস্তবে দেখলাম, যে শিশু রুটিনমাফি উত্তর মুখস্থ করে যায়, সে ইন্টারভিউতে একটু অন্যভাবে প্রশ্ন করলেই থমকে যায়। সেরা প্রস্তুতি হলো মুখস্থের মাধ্যমে নয়, অর্থবহ কথোপকথনের মাধ্যমে এবং ছোটদের ক্ষেত্রে এর মানে হলো অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলার অভ্যাস তৈরি করা।

ব্যক্তিগতভাবে আমি “খেলার ছলে শেখানো”কে “মুখস্থ করানো”র চেয়ে এগিয়ে রাখব, মূলত কারণ প্রথমটায় শিশু নিজেই ভাষা তৈরি করে দ্বিতীয়টায় সে শুধু অন্যের ভাষা ফেরত দেয়।

পরামর্শঃ রিয়ার পুতুল-ইন্টারভিউ পদ্ধতিটা আজই চেষ্টা করুন শিশুকে বলুন “তুমি স্যার, পুতুল স্টুডেন্ট।” মাত্র ১০ মিনিট এই খেলায় আপনি বুঝে যাবেন সে কোন প্রশ্নে আটকে যাচ্ছে।

ইন্টারভিউর দিনে যা করলাম এবং যেটা আশ্চর্য করে দিল

ইন্টারভিউর আগের রাতে আমি কোনো প্র্যাকটিস করাইনি। এটা শুনে অনেকে ভুরু তুলতে পারেন। কিন্তু এর পেছনে কারণ আছে। অতিরিক্ত প্রস্তুতি করানো উচিত নয় কারণ বাবা-মা মাঝেমধ্যে শেষ মুহূর্তের পরামর্শ দিয়ে অজান্তেই শিশুর ওপর চাপ তৈরি করেন এবং উত্তর যেন স্বাভাবিক শোনায়, মুখস্থের মতো নয়।

আমরা সেই রাতে রিয়ার প্রিয় গান শুনলাম। সকালে একটা ভালো নাশতা খেলাম। পথে গাড়িতে বললাম, “তুমি যাচ্ছ নতুন বন্ধু বানাতে।” স্কুলে ইন্টারভিউ বলিনি।

এবার আমাকে অবাক করা বিষয়টা বলি। ইন্টারভিউ রুমে ঢোকার আগে রিয়া শিক্ষিকাকে বলল, “আপনার ঘরটা সুন্দর।” শিক্ষিকা হাসলেন। সেই হাসিটুকুই ভয়টাকে গলিয়ে দিল। বাচ্চাকে আগে থেকে হ্যান্ডশেক, চোখে চোখ রাখা এবং নিজেকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার অনুশীলন করানো দরকার এই বিষয়গুলোতে স্বাচ্ছন্দ্য তৈরি হলে ইন্টারভিউয়ারের সঙ্গে দেখা হওয়াটা স্বাভাবিক মনে হয়।

ইন্টারভিউ ছিল মাত্র ১৫ মিনিটের। রিয়া সেখানে নিজের নাম, প্রিয় গল্পের বই (“ছোট্ট রাজপুত্র”), আর কী হতে চায় সব বলল। কিন্তু সবচেয়ে মজার ছিল শেষে। শিক্ষিকা বললেন, “তুমি কি কিছু জিজ্ঞেস করতে চাও?” রিয়া বলল, “এখানে কি বিড়াল আছে?” মুহূর্তটা হয়তো সম্পূর্ণ ‘সঠিক’ ছিল না কিন্তু ঘরে হাসির শব্দ উঠল। পরিপূর্ণ ইন্টারভিউ দেওয়ার চেষ্টা করলে বাড়তি চাপ তৈরি হয়; বরং একটা আনন্দদায়ক কথোপকথনের দিকে মনোযোগ দেওয়াই ভালো।

যে কথাটা কেউ বলে না সেটা হলো শিশু যদি একটু অদ্ভুত বা মজার কথা বলে, সেটা অনেক সময় ইন্টারভিউয়ারের কাছে ইতিবাচক ছাপ ফেলে। কারণ এটা দেখায় শিশু সত্যিকারের সে, কোনো মুখোশ পরা সংস্করণ নয়।

পরামর্শঃ ইন্টারভিউর আগের রাতে কোনো প্র্যাকটিস নয় পরিবর্তে শিশুর প্রিয় কোনো সহজ কাজ করুন একসাথে। এই একটা পরিবর্তনেই পরের দিনের মনোভাব বদলে যাবে।

বাবা-মায়ের নিজস্ব ইন্টারভিউ প্রস্তুতি: যেটা প্রায় সবাই ভুলে যান

অনেক অভিভাবক সন্তানকে তৈরি করতে গিয়ে নিজেদের কথা ভুলে যান। সত্যিই। অনেক স্কুলে বাবা-মায়েরও আলাদা ইন্টারভিউ হয়। অভিভাবকেরা প্রায়ই সন্তানের ইন্টারভিউ নিয়ে এতটাই ব্যস্ত থাকেন যে নিজেদের ইন্টারভিউর প্রস্তুতি নেওয়াটা এড়িয়ে যান অথচ ভর্তি কর্মকর্তারা সাধারণত ১০ থেকে ২৫ মিনিট বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেন।

আমি যখন নিজেও প্রস্তুতি নিলাম, তখন বুঝলাম প্রশ্নগুলো কতটা সরাসরি। “আপনার সন্তানের দুর্বলতা কী?” এই প্রশ্নের উত্তর কীভাবে দেবেন? অভিভাবকদের সততা ও আশাবাদের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য রাখতে হবে সন্তানের শক্তি তুলে ধরতে হবে অতিরঞ্জন ছাড়াই, আর দুর্বলতার কথা বলতে হবে কোনো সংকট সংকেত না দিয়ে।

আমি ও আমার স্বামী নিজেদের মধ্যে একটি মক ইন্টারভিউ করলাম। হ্যাঁ, বাবা-মায়েরাও মক ইন্টারভিউ দিতে পারেন। আসলে উচিত। তিনটি প্রশ্ন আমরা আগে থেকে মিলিয়ে রাখলাম সন্তানের শক্তি, দুর্বলতা, এবং কেন এই স্কুল।অভিভাবকদের প্রতিটি স্কুল সম্পর্কে যথেষ্ট জানতে হবে যাতে তারা বলতে পারেন এই স্কুলটি কেন তাদের সন্তানের জন্য উপযুক্ত এবং স্কুলের প্রোগ্রাম বা পরিবেশের দুই থেকে তিনটি নির্দিষ্ট বিষয় মাথায় রাখা উচিত।

আরেকটি অন্তর্দৃষ্টি যেটা আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল অভিভাবকদের সন্তানকে বোঝানো দরকার যে ইন্টারভিউ বড় ছবির একটি অংশ মাত্র এবং ফলাফল যাই হোক, সেটা নিয়ে পরিবারে কোনো নাটক না করা।

ইন্টারভিউ আসলে দুই পক্ষের কথোপকথন। ভর্তি ইন্টারভিউ শুধু স্কুলের জন্য আপনাকে মূল্যায়নের সুযোগ নয় এটা আপনার জন্যও স্কুলটি সত্যিই আপনার পরিবারের জন্য সঠিক কি না, তা যাচাই করার একটি বাড়তি সুযোগ। এই দৃষ্টিভঙ্গি রাখলে চাপ অনেকটাই কমে।

ইন্টারভিউ থেকে স্কুল বুঝতে পারে আপনার মূল্যবোধ কী, আপনি সন্তানকে কীভাবে বড় করছেন এবং আপনি কেমন পরিবেশ খুঁজছেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ স্কুল ও পরিবারের মধ্যে একটি অংশীদারিত্ব খোঁজেন, এবং ইন্টারভিউ সেই অংশীদারিত্ব সম্ভব কি না তা নির্ধারণ করতে সাহায্য করে।

শেষ কথা

স্কুল ভর্তির ইন্টারভিউ নিয়ে যত ভয়, যত প্রস্তুতি এর মূলে থাকে একটাই ইচ্ছা সন্তানের জন্য সেরাটা চাওয়া। কিন্তু এই যাত্রায় সবচেয়ে বড় যে শিক্ষাটি আমি পেয়েছি, সেটা হলো নিখুঁত উত্তর মুখস্থ করার দরকার নেই, বরং দরকার হলো শিশু ও অভিভাবক উভয়কেই স্বচ্ছতা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করানো। সেরা প্রস্তুতি হয় অর্থবহ কথোপকথনের মাধ্যমে, মুখস্থবিদ্যার মাধ্যমে নয়।

ভর্তি ইন্টারভিউর প্রশ্নগুলো কঠিন মনে হলেও সঠিক প্রস্তুতি ও মানসিকতা নিয়ে এগোলে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মোকাবেলা করা সম্ভব। এই ইন্টারভিউ কেবল শিশুকে মূল্যায়নের জায়গা নয় বরং অভিভাবক হিসেবে আপনি কীভাবে সন্তানের শিক্ষাযাত্রাকে সমর্থন করবেন, সেটা বোঝারও একটি সুযোগ। তাই নিজেকে প্রতিযোগী ভাবার বদলে ভাবুন একজন অংশীদার হিসেবে।

সবশেষে মনে রাখবেন স্কুল ভর্তির ইন্টারভিউ মোটেও উদ্বেগজনক হওয়ার কথা নয়। সামান্য প্রস্তুতি আর অনেকটা উৎসাহ নিয়ে এগোলে আপনি ও আপনার শিশু দুজনেই এই প্রক্রিয়ায় সাফল্য পেতে পারেন। আত্মবিশ্বাসী থাকুন, স্বাভাবিক থাকুন, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই যাত্রাটি উপভোগ করুন।

নুসরাত জাহান রিমা

নুসরাত জাহান রিমা একজন গৃহিণী ও অভিভাবক ব্লগার, যিনি ঢাকায় বসবাস করেন। নিজের সন্তানের প্রি-স্কুলে ভর্তি ও প্রাথমিক শিক্ষাজীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে তিনি নিয়মিত তথ্যভিত্তিক ও সহায়ক লেখা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি অন্যান্য অভিভাবকদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শও তিনি তাঁর ব্লগে তুলে ধরেন, যাতে নতুন অভিভাবকেরা সহজে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

Leave a Comment