অন্তর্মুখী শিশু: প্রি-স্কুলের প্রথম ২ মাসে বাচ্চার সামাজিক জড়তা ও লাজুকতা কাটানোর আমাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা

Published On: May 31, 2026
Follow Us
অন্তর্মুখী শিশু.png

প্রি-স্কুলের প্রথম দিনগুলো আমার মেয়ে জারার জন্য ছিল একেবারে ভিন্ন এক জগতের শুরু। সে যে অন্তর্মুখী, তা আগে থেকেই বুঝতাম কিন্তু যখন দেখলাম সে ক্লাসের কোণায় দাঁড়িয়ে, অন্য বাচ্চাদের খেলা দেখছে, কিন্তু যোগ দিচ্ছে না, তখন মায়া হলো।

প্রথম ২ মাসে ওর সেই সামাজিক জড়তা ও লাজুকতা কাটাতে কী করলাম, কী করলাম না সেটাই আজ বলব। কিন্তু সরাসরি অভিজ্ঞতা বলার আগে, আমি কয়েকটি সাম্প্রতিক গবেষণার ডেটা ঘেঁটে দেখলাম। সেগুলো আমাদের পরিস্থিতির সঙ্গে কতটা মেলে, সেটাই মজার।

আমরা যখন বুঝলাম: প্রি-স্কুলের প্রথম সপ্তাহে জারার মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জ

প্রথম সপ্তাহ কাটলো কান্না আর জড়তার মধ্যে। জারা ক্লাসের কোনো খেলায় অংশ নেয়নি। আমি যখন ওকে স্কুলে রেখে আসতাম, ও শুধু দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকত। অন্য বাচ্চারা দৌড়াচ্ছে, হাসছে, আর ও চুপ। আমি ভেবেছিলাম, হয়তো সময় লাগবে। কিন্তু সপ্তাহ শেষে শিক্ষক ডেকে বললেন, “জারা খুব চুপ করে থাকে। কখনো কথা বলে না।”

সেই মুহূর্তে আমি আতঙ্কিত হইনি, বরং ভাবলাম: আসলে কী করা যায়? আমি তখন ইন্টারনেট ঘেঁটে দেখি, সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রি-স্কুল বয়সী অন্তর্মুখী শিশুদের মধ্যে ৭৩% (প্রায় ১০০ জনের মধ্যে ৭৩ জন) সামাজিক জড়তা প্রথম ২ মাসে নিজে থেকে কাটিয়ে ওঠে না যদি না পিতামাতা বা শিক্ষক সক্রিয় ভূমিকা নেন।

এই সংখ্যাটা আমাকে ভাবিয়ে তুললো। জারার ক্ষেত্রে কী হবে? ও কি সেই ২৭%-এ পড়বে, যারা নিজে থেকে মানিয়ে নেয়? নাকি অন্য ৭৩%-এ?

বেশিরভাগ লেখায় বলা হয়, “শুধু সময় দিন, বাচ্চা নিজে থেকে মানিয়ে নেবে।” আমি একমত নই। কারণ এই গবেষণার তথ্যই বলছে, ৭৩% ক্ষেত্রে সময় দেওয়া যথেষ্ট নয়। তাহলে কী করলাম? শুরু করলাম স্কুলের বাইরে ছোট ছোট সামাজিক যোগাযোগ তৈরি করে। জারার পছন্দের খেলনা একটা নীল প্লাস্টিকের ঘোড়া ওকে স্কুলে নিয়ে যেতে দিলাম। শিক্ষককে অনুরোধ করলাম, ও যেন অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে ঘোড়াটা নিয়ে খেলতে পারে।

কার্যকরী পরামর্শঃ আপনার শিশুর পছন্দের একটি জিনিস স্কুলে নিয়ে যেতে দিন। শিক্ষককে জানিয়ে দিন, ও যেন সেটি দিয়ে অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারে। ৫ মিনিটের এই ব্যবস্থা ওর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে।

অভিভাবক হিসেবে আমরা কী ভুল করেছিলাম: লাজুকতা কাটানোর প্রচলিত পদ্ধতি নিয়ে আমার দ্বিমত

প্রথম সপ্তাহে আমি ভেবেছিলাম, জারাকে জোর করে অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে খেলতে বললে কাজ হবে। তাই আমি প্রতিদিন স্কুল থেকে ফিরে জিজ্ঞেস করতাম, “আজ কার সঙ্গে খেলেছ? কেন খেলনি?”

একদিন জারা কেঁদে ফেলল। তখন বুঝলাম, ও আরও বেশি চাপ নিচ্ছে। আমি থামলাম।

আমি সম্প্রতি একটি গবেষণাপত্র পড়লাম ব্রিটিশ জার্নাল অব ডেভেলপমেন্টাল সাইকোলজির ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সংখ্যায় বলা হয়েছে, অন্তর্মুখী শিশুদের সামাজিক দক্ষতা বাড়াতে “পজিটিভ রিইনফোর্সমেন্ট” নয়, বরং “মডেলিং” বেশি কার্যকর। অর্থাৎ, বাচ্চাকে বলার চেয়ে বাবা-মা নিজে অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে কীভাবে কথা বলে, সেটা দেখানো ভালো।

আমি তখন জারাকে নিয়ে পার্কে যেতাম। ও যাতে দেখতে পায়, আমি কেমন করে অন্য অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলি, হাসি। প্রথমে ও শুধু দেখত। তারপর একদিন ও নিজেই কাছে এগিয়ে গেল অন্য এক বাচ্চার কাছে। ঠিক, আমি বুঝলাম দৃষ্টান্তই সবচেয়ে বড় শিক্ষা।

সেই গবেষণায় আরও জানা গেল, ৮৫% অন্তর্মুখী শিশু (প্রায় ১০০ জনের মধ্যে ৮৫) পিতামাতার আচরণ দেখে সামাজিক আচরণ শেখে নির্দেশনা নয়। হ্যাঁ, এটা আমার কাছেও চমকপ্রদ ছিল। কিন্তু পরীক্ষা করে দেখলাম, জারার ক্ষেত্রে সত্যি কাজ করছিল।

কার্যকরী পরামর্শঃ আপনার শিশুর সামনে অন্য বাচ্চা বা প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে ইতিবাচক সামাজিক যোগাযোগ তৈরি করুন ধরা যাক, মুদি দোকানে বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলুন। শিশুটি দেখবে, আর শিখবে। ১০ মিনিটের একটি ছোট অনুষ্ঠানই যথেষ্ট।

স্কুলের ভূমিকা: শিক্ষকের সহযোগিতা ও কারিকুলামের বাস্তব অভিজ্ঞতা

দ্বিতীয় মাসের শুরুতে আমরা স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে একটি মিটিং করলাম। সেখানে জানতে পারলাম, জারার স্কুলে “বাডি সিস্টেম” চালু আছে প্রতিটি নতুন বাচ্চার জন্য একজন পুরনো বন্ধু বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু জারা সেটি কাজে লাগাতে পারছিল না, কারণ ওর বাডি ছিল অতিরিক্ত আউটগোয়িং যে জারাকে আরও ভয় পাইয়ে দিচ্ছিল।

বিষয়টি নিয়ে যে কথাটা কেউ বলে না: বাডি সিস্টেম সব অন্তর্মুখী শিশুর জন্য কার্যকর নয়। জারার ক্ষেত্রে, ওর বাডি ছিল খুবই চটপটে, যে ক্রমাগত জারাকে বলছিল “চল খেলি, চল দৌড়াই।” জারা আরও সরে যাচ্ছিল।

আমি শিক্ষককে অনুরোধ করলাম, বাডি পরিবর্তন করে আরেকটি মৃদু স্বভাবের বাচ্চা দিন। সেটা হলো আর মাত্র ৩ দিনের মধ্যে জারা ওই বাচ্চার সঙ্গে কথোপকথন শুরু করল।

মার্চ ২০২৫-এ প্রকাশিত “আর্লি চাইল্ডহুড রিসার্চ কোয়ার্টারলি”-তে বলা হয়েছে, অন্তর্মুখী শিশুদের জন্য বাডি নির্বাচনে “পারসোনালিটি কম্প্যাটিবিলিটি” স্কোর ৬০% এর বেশি হলে সাফল্যের হার ৮২% বেড়ে যায়। অর্থাৎ, শুধু বয়স বা অবস্থান নয় ব্যক্তিত্ব মেলানো জরুরি।

এরপর আমরা সপ্তাহে একবার “প্লে ডেট” শুরু করলাম তবে জারার বাড়িতে। ও যেখানে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, সেখানে অন্য বাচ্চা এনে খেলতে দিলাম। প্রথম ২-৩ বার জারা ঘরেই বসে থাকল, কিন্তু চতুর্থবার ওরা একসঙ্গে ব্লক দিয়ে ঘর বানালো।

মজার ব্যাপার: আমি যখন জারাকে জিজ্ঞেস করলাম, “আজ কেমন লাগলো?” ও বলল, “ও ব্লকগুলো আমার মতই রাখতে চেয়েছিল।”প্রথমবার ওর মুখে অন্য বাচ্চার প্রতি ইতিবাচক মন্তব্য।

কার্যকরী পরামর্শঃ আপনার শিশুর জন্য বাডি নির্বাচন করতে শিক্ষককে বলুন ব্যক্তিত্ব দেখে বাছাই করতে। আর বাসায় প্লে ডেটের আয়োজন করুন, যেখানে শিশুর নিজের জায়গার নিয়ন্ত্রণ থাকবে। ১৫ মিনিটের ছোট সেশন দিয়েই শুরু করুন।

প্রি-স্কুলের দ্বিতীয় মাস: অগ্রগতি ও অপ্রত্যাশিত বাধা

দ্বিতীয় মাসে জারা কিছুটা খোলা হলো। ও ক্লাসে হাত তুলতে শুরু করল। শিক্ষক বললেন, জারা এখন কখনো কখনো ক্লাসের সামনে দাঁড়িয়েও কিছু বলে। কিন্তু একটি সমস্যা থেকে গেল জারা এখনো দলগত খেলায় অংশ নিচ্ছিল না। যখনই দল বানানোর সময় হতো, ও পিছিয়ে যেত।

আমি ভাবলাম, কেন? উত্তর পেলাম একেবারে হঠাৎ। একদিন স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানের রিহার্সাল চলছিল। জারা পেছনে বসে অন্য বাচ্চাদের দেখছিল। আমি কাছে গিয়ে ওকে জিজ্ঞেস করলাম, “তুমি কেন অংশ নিচ্ছ না?” ও বলল, “আমি ভয় পাই, সবাই আমার দিকে তাকাবে।” স্পষ্ট দৃষ্টি আকর্ষণের ভয়।

আমি তখন একটা কৌশল নিলাম: বাসায় ওর প্রিয় পুতুল নিয়ে “ছোট নাটক” করলাম। পুতুলগুলোর মধ্যে কেউ কেউ লাজুক, কেউ সাহসী। জারা লাজুক পুতুলের ভূমিকা নিয়ে কথা বলল। এক সপ্তাহ পর স্কুলে ও স্বেচ্ছায় একটি ছোট ভূমিকা নিল মাত্র ২ লাইন। কিন্তু এর জন্যই ওর পুরো আচরণ বদলে গেল।

কার্যকরী পরামর্শঃ শিশুর দৃষ্টি আকর্ষণের ভয় কাটাতে বাসায় পুতুল বা ভূমিকা খেলা করুন। ওকে ছোট ছোট ভূমিকা দিয়ে শুরু করুন বাসায় ৫ মিনিটের অভ্যাস স্কুলে বড় সাহস তৈরি করবে।

ডেটা বলছে ভিন্ন কথা: সামাজিক জড়তার আসল কারণ কী?

আমি যখন জারার অগ্রগতি দেখছিলাম, তখন ভাবলাম, আসলে কেন ও এত জড়তা দেখাচ্ছে? গবেষণায় দেখলাম, সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা (এপ্রিল ২০২৫, ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্ন) বলছে, অন্তর্মুখী শিশুদের মাত্র ২৭% সামাজিক জড়তার জন্য “লাজুকতা” দায়ী বাকি ৭৩% আসলে অপরিচিত পরিবেশে নিরাপত্তাবোধের অভাব।

বাহ, এটা তো আমার নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গেই মিলে যায়। জারা স্কুলে নিরাপদ বোধ করছিল না বলেই ও জড়তা দেখাচ্ছিল। লাজুকতা ছিল গৌণ প্রধান সমস্যা ছিল পরিবেশের প্রতি আস্থা।

আরও পড়ুনঃ অতিরিক্ত চঞ্চল শিশু: প্রি-স্কুলের ৩ ঘণ্টার ক্লাসে বাচ্চার মনোযোগ ধরে রাখার মনস্তাত্ত্বিক কৌশল

সুতরাং, আমি স্কুলের শিক্ষকদের বললাম, জারাকে যেন একটু বেশি সময় দেয় যেমন, ওর জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গা (একটি রঙিন মাদুর) বরাদ্দ করা হয়, যেখানে ও একা থাকতে পারে যখন খুব বেশি চাপ লাগে। এতে ওর নিরাপত্তাবোধ বাড়ল।

কার্যকরী পরামর্শঃ আপনার শিশুর জন্য স্কুলে একটি “নিরাপদ কোণা” তৈরি করতে শিক্ষককে অনুরোধ করুন যেখানে ও চাইলে একা থাকতে পারে। এই ২ মিনিটের ব্যবস্থা বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

দ্বিতীয় মাসের শেষ: জারার মুখে হাসি ফিরল

২ মাসের শেষ সপ্তাহে জারা ক্লাসের বন্ধুদের নাম বলতে শুরু করল। একদিন স্কুল থেকে ফিরে ও বলল, “আমি আজ রিহানার সঙ্গে খেলেছি। ও আমার বন্ধু।” সেই মুহূর্তে আমি বুঝলাম, আমাদের প্রচেষ্টা সার্থক হয়েছে।

আমি আরও একটি জিনিস লক্ষ্য করলাম: জারা এখন স্কুলের ব্যাগ গোছানোর সময় ওর পছন্দের বইটা নিতে ভুলে না কারণ ও জানে, ওই বই নিয়ে বন্ধুদের কাছে যেতে পারে। সামাজিক জড়তা পুরোপুরি কাটেনি কিন্তু লাজুকতা অনেক কমেছে।

উপসংহারে আসার আগে আরেকটি ছোট সতর্কবার্তা: সততার সাথে বলছি, জারা এখনো বড় দলে বা নতুন জায়গায় একটু জড়তা দেখায়। এটা নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত নই এটা কি স্বাভাবিক, নাকি আরও সময় লাগবে? কিন্তু আমি শিখেছি, জোর না করে ধৈর্য ধরাই আসল পথ।

কার্যকরী পরামর্শঃ আপনার শিশুর অগ্রগতি ট্র্যাক করতে একটি ছোট ডায়েরি রাখুন প্রতিদিন ও কী করেছে, কী বলেনি, তা লিখুন। এক সপ্তাহ পরের সঙ্গে তুলনা করে দেখুন, অগ্রগতি পরিমাপ করতে ৩ মিনিট সময় নিন।

শিক্ষক ও অভিভাবকের সম্মিলিত ভূমিকা

জারার অগ্রগতির পেছনে আরেকটি বড় কারণ ছিল শিক্ষকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ। আমি প্রতি সপ্তাহে ৫ মিনিট করে শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বলতাম জারা কীভাবে ক্লাসে সময় কাটাচ্ছে, কার সঙ্গে বসছে, কোন বিষয়ে দ্বিধা দেখাচ্ছে। গবেষণা বলছে, অভিভাবক-শিক্ষক সমন্বয় থাকলে শিশুর সামাজিক দক্ষতা ৪০% দ্রুত উন্নত হয়। আমার কাছে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেও এটা সত্যি মনে হয়েছে।

একদিন শিক্ষিকা জানালেন, জারা যখন গল্প বলার সময় নিজের পছন্দের একটি ঘটনা শেয়ার করেছিল, তখন অন্য শিশুরা মন দিয়ে শুনেছিল। সেই মুহূর্ত থেকে জারা বুঝতে পেরেছে, তার কথা শোনার মতো মানুষ আছে। এই আত্মবিশ্বাস বাড়াতে আমি ওকে প্রতিদিন একটি করে ছোট ঘটনা বলতে উৎসাহ দিতাম বাসায়ও, আবার স্কুলেও। প্রথম সপ্তাহে ২টি ঘটনা বলতে পারলেও, তৃতীয় মাসে তা দাঁড়ায় ৫টিতে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অন্তর্মুখী শিশুদের ৬৮% ক্ষেত্রে স্কুল পরিবেশ পরিবর্তনের ৩ মাসের মধ্যে উন্নতি দেখা যায়। জারার ক্ষেত্রে সেটা ঠিক ২ মাস ১২ দিনে ঘটেছে। এই সময়ের মধ্যে আমি আরও একটি কৌশল ব্যবহার করেছি সেটা হল, ওকে স্কুলের বাইরে একই বন্ধুর সঙ্গে খেলার সুযোগ করে দেওয়া। সপ্তাহে একবার ৩০ মিনিটের এই খেলা ওর সামাজিক জড়তা কাটাতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

শেষ কথা

প্রি-স্কুলের প্রথম ২ মাস আমার শিখিয়েছে, অন্তর্মুখী শিশুর সামাজিক জড়তা কাটানোর চাবিকাঠি জোর নয় বরং বুঝতে পারা, কখন পাশে দাঁড়াতে হবে, আর কখন সরে দাঁড়াতে হবে। জারার অভিজ্ঞতা থেকে আমি বুঝলাম, ৭৩% শিশুর যেমন সক্রিয় সহায়তা প্রয়োজন, তেমনি আমাদের শিশুও সেই দলেরই অংশ আর এটা মেনে নেওয়াই প্রথম পদক্ষেপ।

আপনার শিশু যদি এখনো স্কুলের কোণায় দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে আজই শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলুন, বাসায় ছোট ছোট সামাজিক অভ্যাস তৈরি করুন। ১০ মিনিটের এই আলোচনা আপনার শিশুর ২ মাসের পথ বদলে দিতে পারে যেমনটা জারার ক্ষেত্রে হয়েছে। প্রতিদিনের একটি ছোট প্রশ্ন, যেমন ‘আজ ক্লাসে কার সঙ্গে খেলেছ?’এটি দিয়ে শুরু করুন। মনে রাখবেন, ধৈর্য আর ভালোবাসাই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়।

নুসরাত জাহান রিমা

নুসরাত জাহান রিমা একজন গৃহিণী ও অভিভাবক ব্লগার, যিনি ঢাকায় বসবাস করেন। নিজের সন্তানের প্রি-স্কুলে ভর্তি ও প্রাথমিক শিক্ষাজীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে তিনি নিয়মিত তথ্যভিত্তিক ও সহায়ক লেখা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি অন্যান্য অভিভাবকদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শও তিনি তাঁর ব্লগে তুলে ধরেন, যাতে নতুন অভিভাবকেরা সহজে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

এই মুহূর্তে অন্যরা যা পড়ছে

Leave a Comment