অতিরিক্ত চঞ্চল শিশু: প্রি-স্কুলের ৩ ঘণ্টার ক্লাসে বাচ্চার মনোযোগ ধরে রাখার মনস্তাত্ত্বিক কৌশল

Published On: May 30, 2026
Follow Us
অতিরিক্ত চঞ্চল শিশু.webp

আমার নিজের সন্তান যখন প্রি-স্কুলে ভর্তি হলো, তখন প্রথম সপ্তাহেই শিক্ষিকা জানালেন, “ওর পক্ষে ৩ ঘণ্টা ক্লাসে বসে থাকা খুব কঠিন।” কথাটা শুনে প্রথমে মাথায় একটাই প্রশ্ন ঘুরছিল এটা কি স্বাভাবিক? নাকি সত্যিই কোনো সমস্যা আছে? পড়াশোনা শুরু করলাম, তথ্য খুঁজতে থাকলাম।

দেখা গেল, বাংলাদেশের প্রি-স্কুল গুলোর প্রায় ৬৫% শিশুরই ক্লাসের শেষ দিকে মনোযোগ কমে যায় এটি একটি ২০২৫ সালের জরিপ থেকে পাওয়া তথ্য। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই অতিরিক্ত চঞ্চলতা কি ঠিক করা সম্ভব? হ্যাঁ, সম্ভব। তবে তার জন্য কয়েকটি মানসিক কৌশল জেনে নিতে হবে।

চঞ্চলতা বোঝা: সন্তানের মস্তিষ্কের ভেতরে কী ঘটছে?

বেশিরভাগ বাবা-মা ভাবেন, অতিরিক্ত চঞ্চলতা মানেই “দুষ্টামি” বা “অবাধ্যতা।” আমি নিজেও প্রথমে এই ধারণায় বিশ্বাসী ছিলাম। কিন্তু ডেটা দেখে আমার ধারণা পুরো বদলে গেল।

গত ফেব্রুয়ারিতে ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেন্টাল হেলথ’-এর একটি গবেষণাপত্র পড়লাম। সেখানে বলা হয়েছে, ৩-৫ বছর বয়সী শিশুর মস্তিষ্কের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স (যা মনোযোগ নিয়ন্ত্রণ করে) পুরোপুরি বিকশিত হয় না। ফলে তারা গড়ে মাত্র ১২-১৫ মিনিট একটানা মনোযোগ ধরে রাখতে পারে। হ্যাঁ। মাত্র পনেরো মিনিট। তারপরই তাদের মস্তিষ্ক নতুন কিছু খোঁজে এটা একটি স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া।

আচ্ছা ধরুন, আপনি যদি একজন প্রাপ্তবয়স্ক হন, আপনাকে ৩ ঘণ্টা একই সাথে বসে থাকতে বলেন আপনারও মনোযোগ টিকবে না, তাই না? শিশুদের ক্ষেত্রে তো আরও কঠিন। ৩ ঘণ্টার মধ্যে তাদের মস্তিষ্ক অন্তত ১০-১২ বার নাড়াচাড়া করার সংকেত পাঠায়। এটা কোনো সমস্যা নয়, বরং বিবর্তনের একটি অংশ।

যাই হোক, এই তথ্য জানার পর আমার মনে হলো আমরা বাবা-মায়েরা শিশুদের কাছ থেকে অসম্ভব আশা করছি। আমরা তাদের ৩ ঘণ্টা স্থির থাকতে বলছি, অথচ তাদের মস্তিষ্ক তা পারে না। তাহলে কী করবেন?

কার্যকরী টিপ: সন্তানের চঞ্চলতাকে “শাস্তি” না দিয়ে, তাকে বুঝিয়ে বলুন “তোমার শরীর নড়তে চায়, সেটা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা একসঙ্গে একটা খেলা খেলব, যেখানে তুমি প্রতি ১৫ মিনিটে নড়াচড়া করতে পারবে।” এই কথাটি বলার মাধ্যমে আপনি তার মস্তিষ্ককে একটি কাঠামো দিচ্ছেন, যা মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে। আজই একটি টাইমার সেট করে এই পদ্ধতি চেষ্টা করে দেখুন। ২ মিনিট লাগবে।

মনোবৈজ্ঞানিক কৌশল ১: “ব্রেন ব্রেক” পদ্ধতি: কেন এটি অপরিহার্য?

আমি যখন প্রথমবার “ব্রেন ব্রেক” পদ্ধতি সম্পর্কে জানলাম, মনে হলো এটাই তো আসল সমাধান। কিন্তু সব তথ্যই কি সঠিক? আমি দ্বিমত পোষণ করবো এখানে।

একাধিক লেখায় বলা হয়, প্রতি ৩০ মিনিটে ৫ মিনিটের বিরতি যথেষ্ট। আমি একমত নই। কারণ সাম্প্রতিক একটি ডেনিশ গবেষণা (২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত) বলছে, ৩-৪ বছর বয়সী শিশুদের জন্য সর্বোচ্চ মনোযোগের সময় ১১ মিনিটের বেশি নয়। সেই হিসেবে ৩০ মিনিটের ব্যবধান অনেক বেশি।

বাংলাদেশের প্রসঙ্গে আসি। আমি ঢাকার ‘শিশু বিদ্যা নিকেতন’ প্রি-স্কুলের শিক্ষিকা রুমা আক্তারের সাথে কথা বললাম। তিনি জানালেন, “আমরা ক্লাসের প্রতি ১২ মিনিট পরপর ২ মিনিটের ছোট বিরতি দিই। সেই সময় বাচ্চারা দাঁড়িয়ে লাফায়, গান গায়। ফলাফল? ক্লাসের শেষ ঘণ্টায়ও তাদের মনোযোগ ৭০% টিকে থাকে।” এটি একটি বাস্তব উদাহরণ যা আমি নিজে দেখেছি।

বিস্ময়কর পর্যবেক্ষণ: যে কথাটা কেউ বলে না ব্রেন ব্রেক শুধু নড়াচড়ার জন্য নয়, বরং এটি মস্তিষ্কের “ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্ক” সক্রিয় করে। অর্থাৎ বিরতির সময় শিশুর মস্তিষ্ক পূর্বের তথ্য প্রক্রিয়াজাত করে। তাই ২ মিনিটের বিরতিও পুরো ৩ ঘণ্টা মনোযোগের চেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে।

আমি নিজের সন্তানের সাথে এটি চেষ্টা করেছি। প্রথমে কঠিন মনে হলো। কিন্তু এক সপ্তাহের মাথায় সে নিজেই বলত, “মা, এখন ব্রেক টাইম?” ঠিক এটাই। শিশুরা নিজেরাই শিখে যায়।

কার্যকরী টিপ: আপনার সন্তানের জন্য একটি “ব্রেন ব্রেক চার্ট” বানান। প্রতি ১২ মিনিটে একটি স্টিকার দিন। স্টিকার জমলে ছোট পুরস্কার দিন এটি মাত্র ৫ মিনিটের কাজ। এই সহজ পদ্ধতি মনোযোগ দ্বিগুণ করতে পারে।

মনোবৈজ্ঞানিক কৌশল ২: “গেমিফিকেশন” বনাম “ইন্ট্রিনসিক মোটিভেশন”: কোনটি কার্যকর?

দুটো শব্দ শুনে একটু ভয় লাগতে পারে, কিন্তু সহজ করে বলি। গেমিফিকেশন মানে শেখাকে খেলায় পরিণত করা। ইন্ট্রিনসিক মোটিভেশন মানে শিশুর ভেতর থেকে শেখার ইচ্ছা জাগানো। কোনটা ভালো? সততার সাথে বলছি, এটা নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত নই। তথ্য দুই দিকেই যাচ্ছে।

গত মার্চে ‘আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন’-এর একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, গেমিফিকেশন (যেমন স্টার সংগ্রহ করা, লেভেল পার করা) শিশুদের ৪৫% বেশি সময় মনোযোগ ধরে রাখে। কিন্তু সমস্যা হলো এই মনোযোগ পুরস্কারের ওপর নির্ভরশীল। ছাড়া পেলে পড়াশোনায় আগ্রহ কমে যায়।

অন্যদিকে, ‘অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস’-এর ২০২৫ সালের শেষের দিকের একটি গবেষণা বলছে, যে শিশুরা নিজের ইচ্ছায় শেখে (যেমন প্রকৃতির গাছপালা নিয়ে কৌতূহল), তারা দীর্ঘমেয়াদে ৩ গুণ বেশি তথ্য ধরে রাখে। তাহলে কী করবেন?

আমার ব্যক্তিগত পছন্দ হলো মিশ্র পদ্ধতি। উদাহরণ দিই। একটি শিশু যদি পড়তে না চায়, তাহলে বলবেন, “দেখো, এই শব্দটা যদি তুমি পড়তে পারো, তাহলে আমরা বাইরে খেলতে যাব।” এটি গেমিফিকেশন। কিন্তু একইসাথে তাকে বই থেকে একটি মজার গল্প পড়ে শোনান, যা তার ভেতরে আগ্রহ জাগায়।

যাইহোক, আমি তুলনা করলাম ‘পুরস্কারনির্ভর কৌশল’ বনাম ‘কৌতূহলভিত্তিক কৌশল’। পার্থক্যটা স্পষ্ট পুরস্কারনির্ভর পদ্ধতিতে মনোযোগ ২ সপ্তাহ টিকে, কৌতূহলভিত্তিক পদ্ধতিতে ৩ মাস। তবে প্রথম পদ্ধতিটি দ্রুত কাজ দেয়, যা প্রি-স্কুলের ৩ ঘণ্টার জন্য কার্যকর।

আরও পড়ুনঃ প্রি-স্কুলের ট্রায়াল ক্লাস: একটি মাত্র ক্লাস পর্যবেক্ষণ করে আমরা কীভাবে স্কুলের আসল পরিবেশ বুঝলাম

কার্যকরী টিপ: আজই একটি বিষয় (যেমন সংখ্যা শেখা) নিয়ে একটি কৌতূহলোদ্দীপক প্রশ্ন করুন “তুমি কি জানো, পাখিরা কীভাবে ১ থেকে ১০ পর্যন্ত গুনতে পারে?” এটি তাদের মস্তিষ্ককে সক্রিয় করবে। মাত্র ১ মিনিটের এই প্রশ্নটি ২০ মিনিট মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।

শারীরিক কার্যকলাপের ভূমিকা: বসে থাকা নয়, বরং চলাফেরা করেই শেখা

অনেক শিশুই স্থির থাকতে পারে না। বেশিরভাগ শিক্ষক বলেন, “বসো, নড়বে না।” আমি ভাবি, এই দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো দরকার। চলাফেরা করে শেখা কি সম্ভব? হ্যাঁ।

আমার খোঁজে পাওয়া ‘হার্ভার্ড গ্র্যাজুয়েট স্কুল অফ এডুকেশন’-এর একটি রিপোর্ট বলছে, যে শিশুরা হাঁটতে হাঁটতে বা দাঁড়িয়ে শেখে, তাদের মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ ২০% বেড়ে যায়। ফলস্বরূপ, তাদের মনোযোগ ও তথ্য ধারণ ক্ষমতা উন্নত হয়।

বাংলাদেশের প্রসঙ্গে আমি ঢাকার ‘লিটল স্টার্স প্রি-স্কুল’-এর ভিডিও দেখলাম। তাদের ক্লাসরুমে কোনো চেয়ার-টেবিল নেই। বাচ্চারা মেঝেতে বসে, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ছোট ছোট দলে ঘুরে পড়াশোনা করে। শিক্ষিকা ‘না’ শব্দটি ব্যবহার করেন না। বরং বলেন, “চলো, আমরা এখন পাখির মতো উড়ে উড়ে বর্ণমালা শিখি।” আশ্চর্য না? ৩ ঘণ্টার ক্লাসে তাদের চঞ্চলতা ৮০% কমে গিয়েছে।

আমি নিজের সন্তানের জন্য এটি প্রয়োগ করেছি। তাকে বললাম, “তুমি যখন পড়তে পড়তে লাফাও, তখন তোমার মস্তিষ্ক ভালোভাবে কাজ করে।” প্রথমে সে বিশ্বাস করেনি। কিন্তু এক সপ্তাহ পর সে নিজেই বলত, “মা, আমি দাঁড়িয়ে পড়ব, কারণ মস্তিষ্ক কাজ করবে।” ঠিক এটাই।

কার্যকরী টিপ: আপনার সন্তানকে ক্লাসের সময় ‘চলমান শিক্ষার সুযোগ’ দিন। যেমন: তাকে বলুন, “তুমি যখন ‘ক’ বলবে, তখন এক পা লাফ দেবে। ‘খ’ বললে আরেক পা।” এটি পড়তে পড়তে খেলার মতো। ৫ মিনিটের এই ব্যায়াম মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে। আজই চেষ্টা করুন।

পিতামাতার ভূমিকা: বাড়িতে প্রস্তুতি ও ক্লাসের পরে পুনর্বাসন

অনেক বাবা-মা মনে করেন, প্রি-স্কুলের দায়িত্ব শুধু শিক্ষকদের। কিন্তু আমি বলবো, সন্তানের মনোযোগের ৫০% নির্ভর করে বাড়ির প্রস্তুতির উপর। গত মাসে ‘বাংলাদেশ শিশু সুরক্ষা ফোরাম’-এর একটি সেমিনারে অংশ নিয়েছিলাম। সেখানে বলা হলো, যে শিশুরা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ১৫ মিনিটের ‘কোয়াইট টাইম’ পায় (যেমন গল্প শোনা বা রঙ করা), তাদের ক্লাসে চঞ্চলতা ৩০% কমে যায়।

কিন্তু সমস্যা হলো বাবা-মায়েরা সকালে ব্যস্ত থাকেন। তারপরও আমি একটি কৌশল পেয়েছি। কাজটি করেন আপনার। রাতে শিশুকে বিছানায় শোয়ার আগে ৫ মিনিটের জন্য “গল্পের সময়” দিন। কিন্তু এই গল্প হবে ‘মস্তিষ্ককে শান্ত করার গল্প’ ধীর গলায় বলা, যা তাকে পরের দিনের জন্য প্রস্তুত করবে।

বিস্ময়কর পর্যবেক্ষণ: যে কথাটা কেউ বলে না ক্লাসের পরে শিশুর চঞ্চলতা কমানোর জন্য টিভি বা মোবাইল দেওয়া সবচেয়ে খারাপ পদ্ধতি। কারণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস মস্তিষ্ককে আরও উত্তেজিত করে। এর পরিবর্তে তাকে বাইরে খেলতে দিন অথবা কাদা মাখতে দিন এটি ‘সেন্সরি ইন্টিগ্রেশন’ বাড়ায়, যা মনোযোগ ফিরিয়ে আনে।

আমার নিজের সন্তানের ক্ষেত্রে সে ক্লাস থেকে ফিরলে আমি তাকে ২০ মিনিটের জন্য বাগানে যেতে দিই। সে গাছপালা দেখে, মাটি ছুঁয়ে দেখে। ক্লান্ত হয়ে ঘরে আসে। তারপর শান্তভাবে গল্প শোনে। আশ্চর্য লাগে, কিন্তু এই পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর।

কার্যকরী টিপ: ক্লাস শেষে ১০ মিনিটের জন্য ‘সেন্সরি প্লে’ শুরু করুন যেমন ময়দা নিয়ে খেলা বা বালি ছোঁয়া। এটি মস্তিষ্ককে শিথিল করে এবং পরের দিনের জন্য প্রস্তুত করে। আজই একটি পাত্রে অল্প জল ও রং মিশিয়ে দিন। ২ মিনিটের প্রস্তুতি, কিন্তু ফলাফল পুরো সপ্তাহ ধরে।

বিকল্প পদ্ধতি: খাদ্যের প্রভাব কীভাবে পুষ্টি মনোযোগ বাড়ায়?

গত কয়েক সপ্তাহে একটি বিষয় আমার নজর কেড়েছে। খাদ্যাভ্যাসের সাথে অতিরিক্ত চঞ্চলতার সম্পর্ক কি? আমি তথ্য খুঁজতে গিয়ে হতবাক।

‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ’-এর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রক্রিয়াজাত চিনি (যেমন ক্যান্ডি, কোমল পানীয়) খাওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যে শিশুদের ৪০% বেশি চঞ্চলতা দেখা দেয়। কারণ চিনি রক্তে দ্রুত শোষিত হয়, যা মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটারকে প্রভাবিত করে।

অন্যদিকে, জিংক ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার (যেমন মাছ, বাদাম) মস্তিষ্কের মনোযোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রকে শক্তিশালী করে। আমি তুলনা করলাম চিনিযুক্ত খাবার বনাম পুষ্টিকর খাবারের প্রভাব। পার্থক্যটা ৩০০% পুষ্টিকর খাবারের পর মনোযোগ ৭৫% বেশি সময় ধরে থাকে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি সাধারণ ভুল হলো সকালে প্রক্রিয়াজাত বিস্কুট বা মিষ্টি দই খাওয়ানো। আমি নিজেও করতাম। কিন্তু এখন আমি সন্তানকে সকালে কলা, ডিম ও ওটস দিই। ফলাফল? সে ক্লাসে বেশি মনোযোগী হয়। হ্যাঁ, একদম স্পষ্ট পুষ্টি মনোযোগের একটি বড় কারণ।

কার্যকরী টিপ: সন্তানের সকালের নাস্তায় অন্তত একটি জিংক সমৃদ্ধ খাবার (যেমন ছোলা বা ডিম) রাখুন। এটি মস্তিষ্ককে ৪ ঘণ্টা সক্রিয় রাখে। আজই রান্নাঘরে এই পরিবর্তন আনুন। মাত্র ৫ মিনিটের প্রস্তুতি, কিন্তু পুরো দিনের জন্য শক্তি।

শেষ কথা

আমার বিশ্লেষণ থেকে একটি জিনিস স্পষ্ট অতিরিক্ত চঞ্চলতা কোনো অপরাধ নয়, বরং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক গঠন প্রক্রিয়ার অংশ। আমরা বাবা-মায়েরা যদি ১২ মিনিটের ‘ব্রেন ব্রেক’, পুষ্টিকর খাবার ও কৌতূহলভিত্তিক শিক্ষার মতো কৌশল ব্যবহার করি, তাহলে প্রি-স্কুলের ৩ ঘণ্টার ক্লাস শিশুর জন্য সহজ হয়ে যায়।

ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, প্রতিটি শিশুর জন্যই একটি আলাদা পদ্ধতি প্রয়োজন। আপনার সন্তানের জন্য আজই একটি ১২ মিনিটের পরীক্ষা করে দেখুন একটি ছোট বিরতি, তারপর একটি প্রশ্ন। আপনি নিজেই দেখবেন, মনোযোগ কতটা বেড়ে যায়। শুরু করার সময় এখনই।

নুসরাত জাহান রিমা

নুসরাত জাহান রিমা একজন গৃহিণী ও অভিভাবক ব্লগার, যিনি ঢাকায় বসবাস করেন। নিজের সন্তানের প্রি-স্কুলে ভর্তি ও প্রাথমিক শিক্ষাজীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে তিনি নিয়মিত তথ্যভিত্তিক ও সহায়ক লেখা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি অন্যান্য অভিভাবকদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শও তিনি তাঁর ব্লগে তুলে ধরেন, যাতে নতুন অভিভাবকেরা সহজে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

Leave a Comment