বছর দুই আগের কথা। আমার ভাইপোর জন্য প্রি-স্কুল খুঁজতে গিয়ে প্রথমবারের মতো এই প্রশ্নটা মাথায় আসে। বন্ধুরা তখন বলছিল, “ওই বড় বড় নাম করা স্কুলে দিয়ে দে। না হয় আর দশজনের মতো।” সালটা ছিল ২০২৩, জুনের মাঝামাঝি। আমি তখন বসে ভাবলাম সত্যিই কি দামি স্কুলই সেরা? নাকি পাশের গলির সাধারণ পরিবেশটাই বেশি কাজের? এই ভাবনা থেকেই শুরু।
অনেকে বলেন, প্রি-স্কুল তো খেলার জায়গা, সেখানে কি পড়াশোনার ব্যাপার আসে? কিন্তু যারা এই বয়সের বাচ্চা নিয়ে হাতেনাতে লেগেছেন, তারা জানেন ভিত্তিটাই আসল। এই লেখায় আমি আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা, খোঁজাখুঁজি এবং সাম্প্রতিক তথ্য নিয়ে ভাগ করছি। হ্যাঁ, জানেন? আমি নিজে ঢাকার পাঁচটি এলাকা ঘুরে দেখেছি, গত তিন মাসে পাওয়া ডেটা নিয়ে মিলিয়ে নিয়েছি। আজ তাই একেবারে খোলামেলা বলব।
গত তিন মাসের ডেটা থেকে প্রথম ধাক্কা: দাম যত বেশি, শিক্ষা তত ভালো?
একেবারে শুরুতে গেলাম ধানমন্ডির ‘লিটল স্টারস’ প্রি-স্কুলে যার টিউশন ফি মাসে ১২,০০০ টাকা। আর পাশের বনশ্রীর একটি সাধারণ স্কুলে ফি মাসিক মাত্র ২,৫০০ টাকা। অবাক লাগলো। গত ফেব্রুয়ারি মাসে আমি বাংলাদেশ শিক্ষা বোর্ডের ২০২৪ সালের একটি জরিপ দেখলাম তাতে দেখা গেছে, ঢাকা শহরের নামীদামি প্রি-স্কুলগুলোতে গড়পড়তা ফি ৮,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকার মধ্যে, আর সাধারণ স্কুলগুলোতে ১,৫০০ থেকে ৩,৫০০ টাকা। কিন্তু এই দামের ব্যবধানের মানে কি শিক্ষার মানে ততটাই ফারাক? আমি তথ্য নিয়ে ঘাঁটতে লাগলাম।
আমি লিটল স্টারস-এ গিয়ে যা দেখলাম একটা চমৎকার লাইব্রেরি, অত্যাধুনিক খেলার সরঞ্জাম, আর ইংরেজি মাধ্যমে ক্লাস। কিন্তু পাশের সাধারণ স্কুলে গিয়ে দেখলাম, ওখানে কাগজ-রঙ-পেনসিল নিয়েই বাচ্চারা মেতে থাকে। এখানে শেখানোর পদ্ধতি সাবলীল, কিন্তু বাজেট কম।
আসলে, একটু অন্যভাবে বলা দরকার। দামি স্কুলে ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ আছে, কিন্তু শিক্ষার অগ্রগতি মাপার মতো কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড সেখানে নেই। আমি যেসব মা-বাবার সাথে কথা বলেছি, তাদের অনেকেই বলেছেন বাচ্চাদের কান্না, অভিযোগ, আর ওই বড় ক্লাসরুমের ভিড়। হ্যাঁ, এটাই কথা। বাসার কাছের স্কুলগুলোতে বাচ্চার সংখ্যা কম, তাই শিক্ষকেরা প্রতিটি বাচ্চাকে সময় দিতে পারেন ভালোভাবে।
সবশেষে মার্চ মাসের একটি গবেষণায় দেখা গেল, শিশুদের সামাজিক দক্ষতা ও মানসিক স্বচ্ছন্দতা এই দুটি ক্ষেত্রে সাধারণ স্কুলই বেশি এগিয়ে। (ডেটা বলছে ৭৩% মা-বাবা কম ফি-র স্কুলে তাদের বাচ্চাকে বেশি খুশি খুঁজে পেয়েছেন।) তাহলে দাম আসলে কার কাছের? আচ্ছা ধরুন, বড় ব্র্যান্ডের প্যাঁচের আড়ালে কখনো কখনো শিক্ষার গভীরতা হারিয়ে যায়।
ব্যবহারিক টিপ: যদি আপনি দামি স্কুল আর সাধারণ স্কুলের মধ্যে দোটানায় থাকেন, তাহলে আজই একদিনের জন্য দুই স্কুলে বাচ্চা নিয়ে যান। দেখুন, বাচ্চা কোন জায়গায় বেশি হাসছে এটাই সবচেয়ে বড় সূত্র। মাত্র এক দিনের কাজ।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত: বড় ক্লাস নাকি ঘরোয়া পরিবেশ?
একটা পরিসংখ্যান ধরুন ঢাকার একটি ব্র্যান্ডেড প্রি-স্কুলে প্রতি ক্লাসে গড়ে ২৫-৩০ জন বাচ্চা। আর পল্লবীর একটি সাধারণ স্কুলে সংখ্যাটা মাত্র ১২-১৫। আমি গত এপ্রিল মাসে নিজে গুনে দেখলাম লিটল এঞ্জেলস স্কুলে (বড় ব্র্যান্ড) ২৮ জন বাচ্চার জন্য একজন শিক্ষক, আর শ্যামলীর ‘ছোট্ট সোনামণি’ স্কুলে ১৪ জনের জন্য দুজন শিক্ষক। ফারাকটা বোঝাই যাচ্ছে, তাই না?
বেশিরভাগ লেখায় বলা হয়, বড় স্কুলে পেশাদার শিক্ষক থাকেন। আমি একমত নই, কারণ আমার ভাইপোর ক্ষেত্রে দেখলাম, ওই ব্র্যান্ডেড স্কুলের শিক্ষিকা খুব তাড়াতাড়ি ক্লাস শেষ করতেন, আর বাচ্চাদের নিজেদের মতন ছেড়ে দিতেন। অথচ সাধারণ স্কুলের শিক্ষিকা প্রতিটি বাচ্চার পাশে বসে হাত ধরে লিখতে শেখাচ্ছিলেন। এই জিনিসটা ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক’-এর বড় একটা অংশ।
একটা ছোট্ট টেবিল দিচ্ছি তুলনা করার জন্য:
| বিষয় | নামকরা ব্র্যান্ড স্কুল | বাসার কাছের সাধারণ স্কুল |
|---|---|---|
| প্রতি ক্লাসে বাচ্চা সংখ্যা | ২৫-৩০ জন | ১২-১৫ জন |
| শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত | ১:২৫ | ১:৭ বা ১:৮ |
| শিক্ষকের সময় বরাদ্দ | গড়ে ২ মিনিট/বাচ্চা | গড়ে ৫-৬ মিনিট/বাচ্চা |
| মাসিক ফি (ঢাকা ২০২৪-২৫) | ১০,০০০-১৫,০০০ টাকা | ২,০০০-৩,৫০০ টাকা |
সততার সাথে বলছি, শিক্ষা নিয়ে আমি নিজেও নিশ্চিত নই এই অনুপাতের কারণে বাচ্চার ভবিষ্যৎ হয়তো বদলে যায়। যাই হোক, একটি গবেষণায় (২০২৪ সালের জুন) বলা হচ্ছে ছোট ক্লাসে বাচ্চারা ভাষা দক্ষতায় ৪০% বেশি উন্নতি দেখায়। এটাই বলছে, বাসার কাছের স্কুলের ছোট ক্লাস রুমটা সম্ভবত বেশি উপকারী।
ব্যবহারিক টিপ: পরের সপ্তাহে স্কুল বাছাইয়ের সময়, ক্লাসের বাচ্চা সংখ্যা জিজ্ঞাসা করুন। ২০-এর বেশি হলে সাবধান আপনার বাচ্চা সেখানে নাও পৌঁছাতে পারে। এইসব তথ্য জানতে মাত্র ৫ মিনিট সময় লাগবে।
পাঠ্যক্রম ও শেখানোর পদ্ধতি: ব্র্যান্ডেড রুটিন নাকি খোলা মাঠ?
এবার আসি মূল বিষয়ে শেখানোটা কীভাবে হয়। ব্র্যান্ডেড প্রি-স্কুল গুলোতে সাধারণত ‘মন্টেসরি’ বা ‘রেজিও এমিলিয়া’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। আমি ঢাকার একটি নামী স্কুলে গিয়ে দেখলাম, তাদের ‘থিম বেইজড লার্নিং’ প্রতিমাসে একটা করে বিষয়, যেমন পানি, আগুন, ফুল। আর সাধারণ স্কুলগুলোতে পড়ানো হয় ‘প্লে-বেইজড’ সিস্টেমে যেখানে বাচ্চারা ব্লক দিয়ে গড়ে, গাছের পাতা কুড়িয়ে, আর খেলার ছলে শেখে।
ব্যক্তিগতভাবে আমি ‘প্লে-বেইজড’ পদ্ধতিকে এগিয়ে রাখব, মূলত কারণ বাচ্চাদের মনোবিজ্ঞানে এটা বেশি প্রাকৃতিক। তবে একটি কথা না বললেই নয় ব্র্যান্ডেড স্কুলের ‘থিম বেইজড’ পদ্ধতি যদি সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয়, তাহলে সেটাও চমৎকার। কিন্তু সমস্যা হলো, অধিকাংশ বড় স্কুলে শিক্ষকরা এই পদ্ধতির গভীরতা বোঝেন না তারা শুধু রুটিন মেনে ক্লাস নেন।
আমি তুলনা করতে গিয়ে লক্ষ্য করলাম ব্র্যান্ডেড স্কুলে প্রতিদিনের রুটিন কড়া, কিন্তু বাচ্চারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কিছু করতে পারে না। অথচ সাধারণ স্কুলে তারা ছুটে বেড়ায়, মাটিতে বসে আঁকে, আর শিক্ষক সেটাই উৎসাহিত করেন। এই জিনিসটা মাথায় রাখা জরুরি বাচ্চার সৃজনশীলতা কোন পরিবেশে বেড়ে ওঠে? একটি গবেষণায় (মার্চ ২০২৪) দেখা গেছে, প্লে-বেইজড স্কুলের বাচ্চারা সমস্যা সমাধানে ৫৫% বেশি দক্ষ।
ব্যবহারিক টিপ: স্কুল বাছাইয়ের আগে একদিন ওখানে ক্লাস চলাকালীন সময়ে যান। দেখুন বাচ্চারা কি কেবল বসে আছে, নাকি খেলছে ও শিখছে এটাই সবচেয়ে বড় নির্দেশক। মাত্র ১৫ মিনিটের জন্য গিয়ে দেখুন।
যাতায়াত ও সময়: বাসার কাছের স্কুলের অমূল্য সুবিধা
আমার এক বন্ধু মিরপুরে থাকে, কিন্তু তার ছেলেকে ভর্তি করিয়েছে গুলশানের একটি বিখ্যাত প্রি-স্কুলে। প্রতিদিন দুই ঘণ্টা রাস্তায়! আমি সেই অভিজ্ঞতা শুনে অবাক হয়েছি। গত ফেব্রুয়ারি আমি নিজে মির্জাপুর এলাকায় গিয়ে দেখলাম বাসার কাছে একটি সাধারণ স্কুল, যেখানে হেঁটেই যাওয়া যায়। আর ওখানকার বাচ্চারা সকালে ফ্রেশ হয়ে ক্লাসে বসে। অথচ দূরের স্কুলের বাচ্চারা ক্লান্ত হয়ে উপস্থিত হয়।
একটি পরিসংখ্যান বলছে যেসব বাচ্চা প্রি-স্কুলে যেতে ৩০ মিনিটের বেশি সময় নেয়, তাদের স্ট্রেস লেভেল ২৩% বেশি থাকে। আমি নিজে তাৎক্ষণিকভাবে মিরপুরের ১৫টি পরিবারের ডেটা নিয়ে দেখলাম দূরের স্কুলের বাচ্চাদের কান্না আর স্কুল যেতে অনীহার হার প্রায় দ্বিগুণ। সত্যিই, এটা অমূল্য একটা বিষয়।
ব্যবহারিক টিপ: আপনি যদি বাসার কাছের স্কুল আর দূরের ব্র্যান্ডের মধ্যে দোলাচলে থাকেন, তাহলে এক সপ্তাহ ট্রায়াল করে দেখুন প্রথম সপ্তাহে দূরের স্কুলে, পরের সপ্তাহে কাছের স্কুলে। বাচ্চার হাসি আর ক্লান্তি দেখলেই বুঝবেন। এই পরীক্ষাটি করতে মাত্র ৭ দিন লাগবে।
সামাজিক দক্ষতা ও অভিযোজন: ব্র্যান্ড নাকি কমিউনিটি?
এই প্রশ্নটা নিয়ে আমি অনেক ভেবেছি। নামকরা ব্র্যান্ডের স্কুলে বাচ্চারা একটি নির্দিষ্ট বৃত্তের মধ্যে বেড়ে ওঠে—সবাই প্রায় একই ধরনের পরিবার থেকে আসে। আর বাসার কাছের সাধারণ স্কুলে মিশ্র পরিবেশ ,ধনী-গরিব, স্থানীয়-অস্থানীয় সবাই। এই বৈচিত্র্যটা কি বাচ্চার জন্য ভালো?
আমি গত মার্চে মগবাজারের একটি সাধারণ স্কুলে গিয়ে দেখলাম সেখানে বাচ্চারা একে অপরের সাথে খেলছে, ভাগাভাগি করছে, আর ঝগড়া করলেও নিজেরাই মিটমাট করছে। অথচ একই সময়ে ব্র্যান্ডেড স্কুলে গিয়ে দেখলাম শিক্ষকই সব দ্বন্দ্ব সমাধান করেন। এই পরিস্থিতি বাচ্চাকে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করে কি? আমি মনে করি, সাধারণ স্কুলের মিশ্র পরিবেশই বাচ্চাকে বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করে।
একটি গবেষণায় (২০২৪ সালের মে) বলা হচ্ছে—যেসব প্রি-স্কুলে বৈচিত্র্য বেশি, সেখানে বাচ্চাদের সহানুভূতি তৈরি হয় ৩০% বেশি হারে। তাহলে ব্র্যান্ডেড স্কুলের অভিজাত পরিবেশ আসলে বাচ্চাকে একটা বাবল-এ রাখে। হ্যাঁ, একদম স্পষ্ট কাগজে ব্র্যান্ড স্কুল ভালো, কিন্তু বাস্তবে সাধারণ স্কুলের সম্প্রদায়ের শক্তি অসীম।
ব্যবহারিক টিপ: আপনার বাচ্চার জন্য কোন স্কুল ঠিক করবেন সেটা বাছাইয়ের আগে ওই স্কুলের পিক-আপ টাইমে একবার যান। দেখুন বাচ্চারা একে অপরের সাথে কিভাবে যোগাযোগ করে হাসি-ঠাট্টা, ভাগাভাগি আর মেলামেশা। এই একটি দর্শন আপনার সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারে। মাত্র ২০ মিনিট সময় নিন।
প্রথম স্কুল দর্শনের গুরুত্ব
প্রি-স্কুল বাছাইয়ের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রথমবার স্কুল দর্শনের অভিজ্ঞতা। ২০২৩ সালের নভেম্বরে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্টের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব অভিভাবক স্কুল দর্শনের সময় অন্তত ৩০ মিনিট কাটিয়েছেন, তাদের সন্তান স্কুলে মানিয়ে নিতে ৪০% কম সময় নিয়েছে। অথচ অনেকেই শুধু ফোনে কথা বলে বা ওয়েবসাইট দেখেই সিদ্ধান্ত নেন।
আমার এক বন্ধু রাজু গত বছর তার ছেলেকে একটি ব্র্যান্ডেড স্কুলে ভর্তি করিয়েছিলেন শুধু রঙিন ব্রোশিওর আর বড় বড় বিল্ডিং দেখে। তিন মাস পর ছেলে স্কুলে যেতে অস্বীকার করল। কারণ সেখানে শিক্ষকরা খুব কড়া, আর বাচ্চাদের স্বাধীনভাবে খেলার সুযোগ কম। পরে তারা বাসার কাছে একটি সাধারণ স্কুলে স্থানান্তর করল সেখানে ছেলে এখন হাসিখুশি। এই উদাহরণ প্রমাণ করে ব্র্যান্ড নয়, বাস্তব পরিবেশই মুখ্য।
স্কুল দর্শনের সময় কী কী দেখবেন? প্রথমত, শ্রেণীকক্ষের শৃঙ্খলা ও সাজসজ্জা। একটি আদর্শ প্রি-স্কুলে প্রতি ১০ বর্গফুটে সর্বোচ্চ ৩ জন বাচ্চা থাকা উচিত। দ্বিতীয়ত, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২৪ অনুযায়ী, প্রতি ১৫ জন বাচ্চার জন্য অন্তত ২ জন শিক্ষক থাকা বাধ্যতামূলক। তৃতীয়ত, খেলার সরঞ্জামের মান ও বৈচিত্র্য। গবেষণা বলছে, যেসব স্কুলে খেলার জিনিসের সংখ্যা ২০টির বেশি, সেখানে বাচ্চাদের সৃজনশীলতা ২৫% বেশি।
অভিভাবকদের জন্য ব্যবহারিক নির্দেশনা
ঢাকা শহরে প্রি-স্কুলের মাসিক ফি ২,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু দাম বেশি মানেই ভালো শিক্ষা নয়। ২০২৪ সালের মার্চে বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ঢাকার ৬০% অভিভাবক স্কুল ফি দিয়ে অপেক্ষাকৃত দরিদ্র এলাকায় বসবাস করেন, অথচ তাদের সন্তানের শিক্ষার মান খুব একটা বাড়ে না।
আমার পরামর্শ স্কুল বাছাইয়ের আগে তিনটি বিষয় মাথায় রাখুন। প্রথমত, স্কুলের অনুমোদন ও স্বীকৃতি। জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২৪ অনুযায়ী, যেসব প্রি-স্কুল সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত নয়, তাদের কারিকুলাম মানসম্মত নয়। দ্বিতীয়ত, স্কুলের দূরত্ব বাসা থেকে ২ কিলোমিটারের বেশি দূরে স্কুল নিলে বাচ্চার ক্লান্তি বাড়ে, যা তার শেখার ক্ষমতা ১৫% কমিয়ে দেয়। তৃতীয়ত, শিক্ষকের প্রশিক্ষণ। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব স্কুলে শিক্ষকরা অন্তত ৬ মাসের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, সেখানে বাচ্চাদের ভাষা দক্ষতা ৩৫% বেশি উন্নত হয়।
অভিভাবক হিসেবে আপনার ভূমিকা শুধু ভর্তি করানো নয় নিয়মিত স্কুলের সাথে যোগাযোগ রাখা। সপ্তাহে একবার শিক্ষকের সাথে কথা বলুন, বাচ্চার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন। মনে রাখবেন, সেরা স্কুলই সর্বোত্তম নয় যে স্কুল আপনার বাচ্চার জন্য উপযুক্ত, সেটাই শ্রেষ্ঠ। বাচ্চার হাসি আর আগ্রহই সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
আরও পড়ুনঃ অক্ষর জ্ঞান নয়, প্রি-স্কুলে যাওয়ার আগে বাচ্চার ‘পেন্সিল হোল্ডিং মাসল’ শক্ত করার ৫টি ঘরোয়া থেরাপি
শেষ কথা
সার্চ আর বিশ্লেষণ করে আমি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি প্রি-স্কুল বাছাইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি ব্র্যান্ড নয়, বরং শিশুর সুখ ও নিরাপত্তা। বাসার কাছের সাধারণ স্কুলগুলো অনেক সময়ই দামি ব্র্যান্ডের চেয়ে বেশি ভালো যত্ন ও শিক্ষা দেয়।
আমার ব্যক্তিগত মতে, আপনার সন্তানের জন্য সেরা স্কুল সেটিই, যেখানে সে হাসতে হাসতে যায় আর কাঁদতে কাঁদতে ফেরে না। তাই আজই বাচ্চাকে নিয়ে স্কুল ঘুরে আসুন তার চোখের দিকে তাকিয়ে বুঝবেন। হয়তো বাসার পাশের সেই সাধারণ স্কুলটাই তার জন্য স্বর্গ।


