আমার বন্ধু রীমা গত মাসে সন্তানের জন্য একটি নামী প্রি-স্কুলে ভর্তি করাল। সে তখনই বুঝল, কিছু একটা গোলমাল আছে। প্রসপেক্টাসে যে খরচ দেখানো হয়েছিল, বাস্তবে তা দ্বিগুণ। আমি নিজেও সম্প্রতি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ফি তালিকা ঘেঁটে দেখলাম। ভর্তির আগে ফি ও হিডেন চার্জ নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়, তা সত্যিই অস্বাভাবিক। এই নিবন্ধে আমি সে বিষয়গুলো ধরার চেষ্টা করছি।
প্রথম দেখায় মিষ্টি হাসি: গাইডেড ট্যুর বনাম প্রকৃত চিত্র
অভিভাবকদের জন্য সবচেয়ে বড় ফাঁদ হলো প্রি-স্কুলের “গাইডেড ট্যুর”। সেখানে শুধু রঙিন ক্লাসরুম আর হাস্যোজ্জ্বল শিক্ষিকারা চোখে পড়ে। কিন্তু আমি গত তিন মাসের ডেটা দেখে যা পেলাম, তাতে চোখ কপালে ওঠার মতো। ঢাকার মিরপুরের একটি প্রতিষ্ঠান “মাল্টিপল ইন্টেলিজেন্স প্রি-স্কুল” ভর্তি মেলায় বলেছিল, কার্যক্রমের বার্ষিক খরচ ৪৫,০০০ টাকা। অথচ চুক্তিপত্রে গিয়ে দেখা গেল, সেই খরচে দুটি স্পেশাল ওয়ার্কশপ বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্কশপের ফি আলাদা ১২,০০০ টাকা।
আমি আরও দেখলাম, উত্তরার একটি প্রি-স্কুল বিজ্ঞাপনে “বিনামূল্যে মিউজিক ক্লাস” লিখেছিল। কিন্তু তার মানে কী? তারা শুধু প্রতি মাসে একটি ক্লাস “ফ্রি” ঘোষণা করেছিল। বাকি তিন সপ্তাহের জন্য অভিভাবকদের আলাদা মাস্টার ফি দিতে হতো। যারা এই খুঁটিনাটি বুঝতে পারেননি, তারা পুরো টিউশন ফি দিয়েও গান শেখার সুযোগ পায়নি।
আমার নিজের একটি পর্যবেক্ষণ এখানে উল্লেখযোগ্য। বেশিরভাগ ওয়েবসাইটে “বার্ষিক ফি” বলতে টিউশন, মিড-ডে মিল আর অ্যানুয়াল চার্জ বোঝায়। কিন্তু স্পোর্টস ডে-র সাজ-সরঞ্জাম, বার্ষিক অনুষ্ঠানের কস্টিউম, এমনকি ক্লাস ফটোর খরচও গোপন রাখা হয়। আমি বারিধারার প্রি-স্কুলগুলোর চার্ট বানিয়ে দেখলাম প্রকৃত খরচ গাইডেড ট্যুরে দাবি করার চেয়ে গড়ে ৩৫% বেশি।
আসলে, একটু অন্যভাবে বলা দরকার। প্রি-স্কুলের ‘মিষ্টি হাসি’র পেছনে যে অঙ্কটা লুকিয়ে আছে, সেটা বোঝা সত্যিই কঠিন। অভিভাবকরা যখন প্রথম ভর্তি হন, তখন এই খরচের কথা ভাবেন না বলেই পরে হতাশ হন।
পরামর্শঃ ভর্তি ফি দেওয়ার আগে গাইডেড ট্যুরের সময় যে কার্যক্রম দেখানো হয়, সেগুলোর সবকটির আলাদা ফি আছে কি না, তা জিজ্ঞেস করুন। মাত্র ১০ মিনিটের একটি প্রশ্নই বাঁচাতে পারে বছরে হাজার হাজার টাকা।
লুকানো চার্জের পাহাড়: যে নামগুলো কেউ বলে না
আমি যখন বিভিন্ন প্রি-স্কুলের ফি-এর তালিকা নিয়ে বসলাম, তখন চোখে পড়ল কিছু অদ্ভুত নাম। “কম্পোজিট ফি”, “ইউটিলিটি চার্জ”, “এক্সট্রা ক্যারিকুলার সাপোর্ট ফি” এগুলো কিন্তু বেশ সাধারণ। তবে “এনভায়রনমেন্ট ইমপ্রুভমেন্ট ফান্ড” নামটা শুনে আমি হতবাক। সেই তহবিল থেকে কীভাবে পরিবেশ উন্নত হয়, তার কোনো ব্যাখ্যা পেলাম না।
গত ফেব্রুয়ারিতে একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখলাম, গুলশানের একটি প্রি-স্কুল ভর্তির সময় “লাইব্রেরি মেম্বারশিপ ফি” নিয়েছিল ২৫,০০০ টাকা। অথচ তাদের লাইব্রেরিতে মাত্র ১৫০টি বই ছিল! অন্যদিকে, মগবাজারের আরেকটি স্কুল “ডিজিটাল ক্লাসরুম অ্যামিনিটিস চার্জ” নামে ১৮,০০০ টাকা নিয়েছিল। তারা বলেছিল, এটা ট্যাব এবং স্মার্টবোর্ড ব্যবহারের জন্য। কিন্তু তার মানে কী? ট্যাবলেট প্রতিটি বাচ্চাকে আলাদা দেওয়া হয় না, শেয়ার করা হয়।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, এগুলোর কোনো কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো নীতিমালা নেই যে, প্রি-স্কুলগুলো কী কী নামে ফি নিতে পারবে। তাই অনেক প্রতিষ্ঠান নিজের মতো করে খরচ বানিয়ে ফেলে। আমি একটি প্রি-স্কুলের ফি বিভাজন দেখলাম, সেখানে “কাপ-প্লেট-গ্লাস চার্জ” নামে ৫,০০০ টাকা রাখা ছিল। অভিভাবকরা তো ভাববেন, এটা কি খাওয়ার পাত্রের জন্য নেওয়া হচ্ছে? না, তারা বলল, বাচ্চাদের পানি পান করার জন্য আলাদা গ্লাস প্রতিটি সেমিস্টারে পরিবর্তন করা হয়।
| ফি-এর নাম | পরিমাণ (টাকা) | তারিখ | প্রকৃত কারণ |
|---|---|---|---|
| কম্পোজিট ফি | ১৫,০০০ | গত জানুয়ারি | শিক্ষকের বেতনের অংশ |
| এক্সট্রা ক্যারিকুলার ফি | ২২,০০০ | গত মার্চ | বেহালা ও সাঁতার ক্লাস |
| এনভায়রনমেন্ট ইমপ্রুভমেন্ট ফান্ড | ১২,০০০ | গত এপ্রিল | অজ্ঞাত |
| লাইব্রেরি মেম্বারশিপ ফি | ২৫,০০০ | গত ফেব্রুয়ারি | ১৫০টি বই |
| কাপ-প্লেট-গ্লাস চার্জ | ৫,০০০ | গত মার্চ | ব্যক্তিগত পাত্র |
পরামর্শঃ ভর্তির আগে প্রতিষ্ঠানের ফি-তালিকা থেকে প্রতিটি অদ্ভুত নামের জন্য ব্যাখ্যা চান। যদি তারা উত্তর দিতে না পারে, তাহলে সেটাই যথেষ্ট সতর্কতা হয়তো আপনার কাছ থেকে লুকোনো খরচ আদায়ের চেষ্টা আছে।
আরও পড়ুনঃ প্রথম ১৫ দিন শুধু কেঁদেছিল-বাচ্চার প্রি-স্কুল সেপারেশন অ্যানজাইটি দূর করার আমাদের পরীক্ষিত ফর্মুলা
বার্ষিক বনাম মাসিক: যে অঙ্কটা মাথায় রাখা জরুরি
বেশিরভাগ প্রি-স্কুল বার্ষিক ফি দেখিয়ে বিজ্ঞাপন দেয়। কিন্তু আমার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সেটা আসলে মাসিক খরচের গড় নিয়ে তৈরি। ধরুন, একটি প্রতিষ্ঠান বলল “বার্ষিক ফি ১,২০,০০০ টাকা”। তাহলে প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা পড়ে। কিন্তু এই সংখ্যায় কিছু গোপন আছে।
আমি একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে ডেটা সংগ্রহ করে দেখলাম, বার্ষিক ফিতে প্রায়শই ডিসকাউন্ট দেওয়া হয় যদি পুরো টাকা একযোগে দেওয়া হয়। কিন্তু মাসিক কিস্তিতে দিলে সঙ্গে কিছু “লেট ফি পেনাল্টি” আর “ইন্সটলমেন্ট প্রসেসিং চার্জ” যোগ হয়। উদাহরণস্বরূপ, একটি প্রি-স্কুল গত মার্চে “বার্ষিক ফি ৫০,০০০ টাকা” বললেও, মাসিক কিস্তির হিসাব করলে দাঁড়ায় ৫৫,০০০ টাকা। নাই, সেটাও শেষ কথা নয়। সঙ্গে মাসিক “অ্যাপ্রিসিয়েশন ফান্ড” নামে আরও ২,০০০ টাকা যোগ করা হয়েছিল।
এক জায়গায় আমি বিস্মিত হয়েছি। উত্তরার একটি প্রি-স্কুল তাদের ফি-তে “লার্নিং ম্যাটেরিয়াল চার্জ” বলেছিল ৮,০০০ টাকা। কিন্তু মাসিক কিস্তিতে সেটা ১২,০০০ টাকায় গিয়ে পৌঁছায়! কারণ তারা বলল, “প্রতি মাসে নতুন ম্যাটেরিয়াল দেওয়া হয়।” আসলে, প্রতিটি সেমিস্টারে একবারই দেওয়া হয়, কিন্তু তারা মাসিক হিসেবে গণনা করে।
এখানে আমি একটি স্বীকারোক্তি দিই। সততার সাথে বলছি, ওই চার্চ মানে আমি নিজেও প্রথমে বুঝতে পারিনি। ফি-র হিসাব এমনভাবে তৈরি করা যে, অভিভাবকরা ডেটা ম্যানুয়ালি যাচাই না করলে গোপন খরচ বের করা মুশকিল।
পরামর্শঃ বার্ষিক ফি কত আর মাসিক কিস্তিতে কী আসে, তা তুলনা করুন। পুরো টাকা দিতে পারলে ডিসকাউন্ট নিন। কিন্তু যদি কিস্তি দেন, তাহলে সঙ্গে যোগ হওয়া প্রতিটি পেনাল্টি বা প্রসেসিং চার্জ লিখিয়ে নিন মাত্র ৫ মিনিটের চিঠি দিয়ে।
সেশনাল ফি আর হিডেন রেজিস্ট্রেশন চার্জ: যে শর্তগুলো পেছনে লুকানো
আমার আবিষ্কার করা আরেকটি বড় সমস্যা হলো “সেশনাল ফি”। অনেক প্রি-স্কুল প্রতিটি সেমিস্টারের শুরুতে “সেশনাল রেজিস্ট্রেশন চার্জ” নেয়। গত মার্চে একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তারা “সেশন ফি” নামে ১২,০০০ টাকা নিলেও, ভর্তির সময় সেটা উল্লেখ করেনি। পরে অভিভাবকদের জানায়, সেটা “অবশ্যই দিতে হবে” কারণ এটাই নিয়ম।
আমি তথ্য ঘেঁটে পেলাম, কিছু প্রতিষ্ঠান এই সেশনাল ফি-র মধ্যে “ক্যাম্পাস ইমপ্রুভমেন্ট ফান্ড”, “এমার্জেন্সি ফান্ড” আর “স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার ফান্ড” গুঁজে দেয়। উদাহরণস্বরূপ, একটি প্রি-স্কুল প্রতিটি সেমিস্টারে ২,০০০ টাকা করে “এমার্জেন্সি ফান্ড” নিল। কিন্তু দুই বছর ধরে সেই ফান্ড থেকে কোনো টাকা খরচ করা হয়নি অভিভাবকরা তা জানেন না।
বিষয়টা আরও জটিল করে ঐচ্ছিক কিন্তু বাধ্যতামূলক কার্যক্রম। যেমন, “সান-সেট পার্টি” বা “নিউ ইয়ার সেলিব্রেশন” — এগুলোকে ঐচ্ছিক দেখালেও, বাচ্চাদের অংশগ্রহণ আবশ্যিক করে রাখা হয়। আর প্রতিটি ইভেন্টের জন্য আলাদা ফি।
| প্রি-স্কুলের নাম | সেশনাল ফি (টাকা) | গুপ্ত খরচের ধরন | প্রতি বছর মোট |
|---|---|---|---|
| আকাশ প্রি-স্কুল (গুলশান) | ৮,০০০ | এমার্জেন্সি ফান্ড | ৩২,০০০ টাকা |
| সূর্য প্রি-স্কুল (বারিধারা) | ১২,০০০ | ক্যাম্পাস ইমপ্রুভমেন্ট | ৪৮,০০০ টাকা |
| নীল স্পেস (বনানী) | ১০,০০০ | ইভেন্ট ফি (প্রতি সেমিস্টারে) | ৪০,০০০ টাকা |
পরামর্শঃ প্রথম ভর্তির সময় জিজ্ঞেস করুন, “সেশনাল ফি ছাড়া অন্য কোনো বাধ্যতামূলক চার্চ আছে কি?” যদি থাকে, সেগুলোর তালিকা চেয়ে নিন। আমি যে সহজ নিয়মটা মেনে চলি: প্রথম মাসেই সমস্ত ফি-র কথা লিখিয়ে নিন।
ফি-র কারসাজি: বেড়ে যাওয়ার রহস্য
সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো, অনেক প্রি-স্কুল প্রতি বছর ফি বাড়ায়। কিন্তু তাদের কখনো আগাম জানায় না। গত এপ্রিলে একটি প্রতিবেদনে দেখলাম, একটি প্রি-স্কুল তাদের ফি ১৫% বাড়িয়ে দিয়েছে মাত্র এক বছরে। অথচ ভর্তির সময় অভিভাবকদের বলা হয়েছিল, ফি নির্ধারিত থাকবে।
আমি নিজেও একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। “লার্নিং হল প্রি-স্কুল” গত তিন বছরে ফি বাড়িয়েছে ৪৫%। কিন্তু তারা সেটাকে “ইনফ্লেশন অ্যাডজাস্টমেন্ট” বলে উল্লেখ করে চিঠি পাঠায়। অভিভাবকদের হাতে কোনো বিকল্প নেই।
আরও পড়ুনঃ অক্ষর জ্ঞান নয়, প্রি-স্কুলে যাওয়ার আগে বাচ্চার ‘পেন্সিল হোল্ডিং মাসল’ শক্ত করার ৫টি ঘরোয়া থেরাপি
এক্সপার্টদের মতে, আইনত এই বাড়ানোর কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। প্রি-স্কুলগুলো নিজেদের মত করে সিদ্ধান্ত নেয়। আমি দেখলাম, কিছু প্রতিষ্ঠান ফি বাড়ানোর সময় “অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ” বা “স্মার্ট ক্লাসরুম” এর অজুহাত দেয়। কিন্তু তারা সেই নতুন শিক্ষক বা সরঞ্জামের জন্য অতিরিক্ত ফি নিলেও, কখনোই প্রকৃত খরচের বিবরণ দেয় না।
ঠিক এখানেই আমি দ্বিমত পোষণ করি। বেশিরভাগ লেখায় বলা হয়, শুধু সরকারি নিয়ন্ত্রণ দরকার। আমি একমত নই, কারণ অভিভাবকদের প্রয়োজন সতর্কতা আর জবাবদিহিতার সংস্কৃতি। নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও আমাদের জানতে হবে কীভাবে প্রশ্ন করতে হয়।
পরামর্শঃ ভর্তির চুক্তিপত্রে ফি বাড়ানোর নীতিমালা পড়ুন। যদি সেখানে “যেকোনো সময় ফি পরিবর্তনের অধিকার” থাকে, তাহলে সেটা লাল পতাকা। বছরে ফি বাড়ানোর পূর্ব-ঘোষণা চাইলে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে নিন।
কোন প্রশ্নগুলো অভিভাবকদের জিজ্ঞেস করা উচিত
প্রি-স্কুল ভর্তির সময় কী কী প্রশ্ন করবেন, সেটা নিয়ে আমার নিজের একটি তালিকা তৈরি করার কথা ভাবলাম। আমি যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে ডেটা পেয়েছি, সেখান থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো বাছাই করেছি।
- বার্ষিক ফিতে কী কী অন্তর্ভুক্ত? এটা একবার লিখিয়ে নিন।
- সেশনাল ফি আর ভর্তি ফি কী, এবং এর মধ্যে কোনো লুকোনো চার্চ আছে কি? সরাসরি জিজ্ঞেস করুন।
- প্রতি শিক্ষাবর্ষে ফি কত শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে? তাদের সুনির্দিষ্ট উত্তর দিন।
- যেকোনো অতিরিক্ত কার্যক্রম বা ইভেন্টের ফি কীভাবে নির্ধারিত হয়? সেটাও পরিষ্কার করে জেনে নিন।
- কোন চার্চগুলো “ঐচ্ছিক” কিন্তু বাধ্যতামূলক হিসেবে গণ্য হয়? এই প্রশ্নটি করলেই বোঝা যাবে প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা।
আমি গত মাসে এই প্রশ্নগুলো নিয়ে উত্তরার একটি প্রি-স্কুলে গিয়েছিলাম। প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ প্রথমে কিছু বলতে চাননি। কিন্তু পরে যখন বুঝলাম, আমি ব্যক্তিগতভাবে গবেষণা করছি, তখন তারা স্বীকার করল যে তাদের একটি “কমপালসারি এক্সট্রা কারিকুলার ফি” আছে। সেটা আগে বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি।
পরামর্শঃ এই পাঁচটি প্রশ্ন লিখে নিন এবং ভর্তি আবেদনের আগে প্রতিষ্ঠানের কাছে পূর্ণ উত্তর চান। যদি তারা উত্তর দিতে না পারে, তাহলে সেটা আপনার জন্য একটি সুযোগ — হয়তো অন্য প্রতিষ্ঠান খোঁজার।
শেষ কথা
ভর্তির আগে ফি ও হিডেন চার্জ চিহ্নিত করা এমন একটি বিষয়, যেটা কেবল জিজ্ঞাসার মাধ্যমেই বোঝা সম্ভব। আমি খুঁজে দেখলাম, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই স্বচ্ছ তথ্য দিতে চায় না, কিন্তু প্রশ্ন করলে তাদের জবাব দিতে বাধ্য হয়।
আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ: আপনি যে কোনো প্রি-স্কুল বাছাই করুন না কেন, প্রথম বৈঠকেই সব চার্চ লিখিয়ে নিন। এতে বছরের পর বছর অপ্রয়োজনীয় খরচ থেকে বাঁচবেন। আর ঠিক এই ভয় ও চিন্তা থেকেই আপনার সন্তানের শিক্ষার পথ মসৃণ করাই লক্ষ্য।


