নুসরাত জাহান রিমা.png

আমি নুসরাত জাহান রিমা, পেশায় একজন গৃহিণী এবং দুই সন্তানের মা। প্রতিদিন আমার ছেলে ও মেয়েকে ঢাকার একটি প্রি-স্কুলে নিয়ে যাই এবং তাদের স্কুল ছুটি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করি। একজন মা হিসেবে শিশুদের বেড়ে ওঠা, শেখা, আচরণগত পরিবর্তন এবং অভিভাবকত্বের নানা বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শিখছি। সেই অভিজ্ঞতা, শিশু বিকাশ সম্পর্কিত জ্ঞান এবং অভিভাবকদের জন্য কার্যকর পরামর্শ সহজ ভাষায় সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই ব্লগের যাত্রা শুরু।

মজার বিষয় হলো, যখন প্রথম দিকে আমি আমার সন্তানদের সেই স্কুলে ভর্তি করাই, তখন সেখানে আমার পরিচিত কেউ ছিল না। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই অন্যান্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে আমার একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ফলে বাইরে অপেক্ষা করার সময়টুকু আর একঘেয়ে বা বিরক্তিকর মনে হতো না।

এই পরিচয়ের মাধ্যমে আমি বিভিন্ন অভিভাবকের কাছ থেকে তাদের সন্তানদের পড়াশোনা, আচরণ, মানসিক বিকাশ এবং অন্যান্য নানা ধরনের সমস্যার কথা শুনতে শুরু করি। পাশাপাশি তারা কীভাবে সেই সমস্যাগুলোর সমাধান করেছেন, সেটাও জানতে পারি। একইভাবে আমার ছেলে-মেয়েদের বিভিন্ন সমস্যা ও সেগুলোর সমাধানের অভিজ্ঞতাও আমি তাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করি। এতে আমরা সবাই একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হই।

এভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর আমার মনে হলো, এসব সমস্যা শুধু আমার বা আমার পরিচিত কয়েকজন অভিভাবকের নয়। ঢাকার এই ব্যস্ত শহরে এমন হাজার হাজার অভিভাবক আছেন, যারা প্রতিনিয়ত একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন।

একদিন আমি বিষয়টি আমার স্বামীর সঙ্গে আলোচনা করি। তখন তিনি আমাকে বললেন, “তুমি তো কলেজজীবনে ভালো লেখালেখি করতে এবং কম্পিউটারেও বেশ দক্ষ ছিলে, আবার এই সকল বিষয়ে তোমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্ট কোর্সও করা আছে।  যদি তোমার জন্য একটি ব্লগ তৈরি করে দিই, তাহলে কেমন হয়? সেখানে তুমি তোমার অভিজ্ঞতা ও শেখা বিষয়গুলো অন্য অভিভাবকদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারবে। এতে তোমার লেখালেখির চর্চাও হবে, আবার অনেক অভিভাবকও উপকৃত হবেন।”

তার এই প্রস্তাব আমার খুব ভালো লাগে এবং আমি আনন্দের সঙ্গে রাজি হয়ে যাই। এরপর আমার স্বামী আমার জন্য এই ব্লগটি তৈরি করে দেন।

সেদিন থেকেই আমি নিজের এবং আমার পরিচিত অভিভাবকদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, শেখা বিষয় এবং বিভিন্ন সমস্যার কার্যকর সমাধানগুলো সহজ ও আন্তরিক ভাষায় এই ব্লগে তুলে ধরা শুরু করি।

আমার শেখার যাত্রা

একজন মা হিসেবে বাস্তব অভিজ্ঞতার পাশাপাশি শিশুদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশ সম্পর্কে আরও জানার আগ্রহ থেকে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের Department of Educational and Counselling Psychology বিভাগ থেকে শিশু মনোবিজ্ঞান, Play Therapy (প্লে থেরাপি) এবং Child Development বিষয়ক বিভিন্ন শর্ট কোর্স সম্পন্ন করেছি।

এই কোর্সগুলো আমাকে শিশুদের আচরণ, আবেগ, শেখার ধরন এবং বিকাশের বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করেছে। ফলে আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পাশাপাশি শিশু বিকাশ সম্পর্কিত নির্ভরযোগ্য জ্ঞানও পাঠকদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করি।

এই ব্লগে আপনি কী ধরনের তথ্য পাবেন?

এই ব্লগে আমি শুধু অভিজ্ঞতার গল্প শেয়ার করি না, বরং বাস্তবে কাজে লাগে এমন সহজ ও কার্যকর কৌশলও তুলে ধরি।

যেমন:

ঘরে বসে সামাজিক দক্ষতা গড়ে তোলা

অনেক শিশু নতুন পরিবেশে লাজুক বা চুপচাপ থাকে। আমার নিজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গল্প বলা, পালা করে কথা বলার খেলা এবং ছোট ছোট রোল-প্লে কার্যক্রম শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

স্কুল ইন্টারভিউর জন্য চাপমুক্ত প্রস্তুতি

অনেক অভিভাবক স্কুল ইন্টারভিউকে বড় একটি পরীক্ষার মতো মনে করেন। কিন্তু আমি দেখেছি, শিশুর সঙ্গে নিয়মিত গল্প করা, ছবি দেখে কথা বলা এবং দৈনন্দিন বিষয়ে আলাপ করা তাকে আরও স্বাভাবিক ও আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করে।

খেলার মাধ্যমে শেখা

প্রি-স্কুল বয়সী শিশুদের জন্য খেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ শেখার মাধ্যম। রঙ চেনা, বস্তু গোনা, ছবি দেখে গল্প বানানো কিংবা ছড়ার সঙ্গে অঙ্গভঙ্গি ব্যবহার করার মতো সাধারণ কার্যক্রমও শেখাকে আনন্দদায়ক করে তুলতে পারে।

নতুন স্কুলে মানিয়ে নিতে সাহায্য করা

নতুন পরিবেশে অনেক শিশু প্রথম দিকে অস্বস্তি বোধ করে। ধৈর্য, ইতিবাচক উৎসাহ এবং নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে অভিভাবকরা এই পরিবর্তনের সময়টাকে অনেক সহজ করে তুলতে পারেন।

আমার লক্ষ্য

আমি বিশ্বাস করি, আমার এই লেখাগুলো অনেক অভিভাবকের উপকারে আসবে। বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে শেয়ার করা পরামর্শ ও পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে তারা তাদের সন্তানদের লালন-পালন ও শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও আত্মবিশ্বাসী হতে পারবেন।

আমার এই ছোট্ট উদ্যোগের লক্ষ্য একটাই অভিভাবকদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য, অভিজ্ঞতা-ভিত্তিক এবং তথ্যসমৃদ্ধ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যেখানে আমরা একে অপরের কাছ থেকে শিখব, অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেব এবং শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে একসঙ্গে এগিয়ে যাব।